প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভুটানের জল নামতেই উত্তরের সংকোশ নদীতে (Sankosh River) মড়ক লেগেছে মাছেদের। বিপুল পরিমাণে মরা মাছ ভেসে উঠেছে নদীর জলে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার সীমান্ত এলাকায়। সারি সারি মাছ পড়ে থাকতে দেখে (Sankosh River Fish Death) লুটেপুটে নিচ্ছেন অনেকে। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে সেই মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও। দিলেন জরুরি বার্তা।
নদীতে মাছের মড়ক
বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানের শিন্তাফু হিমবাহের হ্রদ ফেটে জল নেমে আসছে নীচের এলাকায়। যার ফলে ওই জল উত্তরবঙ্গের নদীতেও বয়ে এসেছে। আর এতেই মাছেদের জীবন বিপন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে দেখা গিয়েছে, সংকোশ নদীতে মাছের মড়ক। নদীর চরেও পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণে মাছ। নদীতে মাছ দেখে অসম এবং বাংলার প্রচুর মানুষ নদী থেকে মরা মাছ সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এরপরই এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা পরিদর্শন করতে আসলেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও। ভেসে আসা মাছ নিয়ে দিলেন বিশেষ সতর্কবার্তা।
সতর্কবার্তা বনমন্ত্রীর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আজ অর্থাৎ শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শন করে বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও জানিয়েছেন যে, “এখানকার মাছেদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, কারণ বৃহস্পতিবার রাতে নদীর জল কালো হয়ে গিয়েছিল। হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়ার কারণে জলে রাসায়নিক মিশে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই জল সংকোশ নদীতে এসে মেশায় মাছের মড়ক লেগেছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, “আগেই কুড়িয়ে পাওয়া কয়েক টন মাছ বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলি সাধারণ মানুষের খাবারের পাতে পৌঁছে গেলে বিপদ হতে পারে। তাই কোনওভাবেই ভেসে আসা মরা মাছ সংগ্রহ, বিক্রি, খাওয়া উচিত নয়।”
আরও পড়ুন: রাজারহাট–গোপালপুরে মেগা চাকরি মেলা! নিয়োগের বড় উদ্যোগ বিধায়ক তরুণজ্যোতির
মাছগুলো মাটির নিচে চাপা দেওয়া হচ্ছে
মাছের মড়কের আতঙ্ক ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার সীমান্ত এলাকায়। বাজার থেকে মাছ কেনার সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। নদী থেকে তোলা মরা মাছ পাড়েই মাটি চাপা দেওয়ার কাজ চলছে। এমনকি মনোজ নিজে হাতে কিছু মরা মাছ মাটিতে পুঁতে দিয়ে আসেন। এ দিন সকালেই ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ওই মাছ সাধারণ মানুষকে না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রাও রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই ঘটনায়। তবে ধীরে ধীরে সকলেই সংগ্রহ করা মাছগুলো মাটির নিচে চাপা দিয়ে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভুটানে হ্রদ বিপর্যয়ের খবর মিলতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছিল ভুটান লাগোয়া উত্তরবঙ্গেও। জলঢাকা, সংকোশ সহ কয়েকটি নদীতে নজরদারির পাশাপাশি বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলা প্রশাসন। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ একটি ভিডিও বার্তায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছিলেন। তবে সবটাই এখন নিয়ন্ত্রণে।










