৫০-৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি, ফের ED দফতরে হাজিরা দিলেন ইন্দ্রনীল সেন

Published:

ed indranil sen

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: আরও একবার ইডির (ED) দফতরে হাজির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) নেতা ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রাক্তন মন্ত্রীর করা দুর্নীতি নিয়ে সরব ইডি। তাঁর কাছে সমস্ত সংস্থার গত ১০ বছরের আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি চেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে এটাই প্রথম, এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরও তাঁকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

কোন কোন দুর্নীতির জেরে ইডির তলব?

এ বারের জেরায় শুধু দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মই নয়, বরং মুর্শিদাবাদে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন করা হতে পারে বলে ইডি সূত্রের খবর। ওই সময় মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন ইন্দ্রনীল। তাঁর সঙ্গে নাকি নিয়োগে অনিয়মেরও যোগসূত্র রয়েছে, এমন অনেক তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পাশাপাশি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, কলকাতা বইমেলা এবং সরকারি দফতরের টেন্ডার সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনও ইতিমধ্যেই ইডির তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে ‘মাস আর্ট’-কে ঘিরে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং VIP পাস বিক্রির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে ইডি। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপকে কেন্দ্র করে এই প্রিভিউ শো আয়োজন এবং পাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, UNESCO-র মতন প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো এবং ভাবমূর্তি ব্যবহার করে অনুষ্ঠানগুলির প্রচার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি।

তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা Octave Records-এর আর্থিক লেনদেনও নজরে এসেছে তদন্তকারী সংস্থার। ইডির দাবি, ওই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মমতা ব্যানার্জির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। ইন্দ্রনীল অবশ্য ওই অর্থকে ‘রয়্যালটি’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির পরিচালিত সংস্থাকে সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং সেই অর্থের গতিপথ নিয়েও তদন্ত করছে ইডি।

আরও পড়ুন: ‘গঙ্গা জল চুক্তিতে নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে’ ভারতকে চাপে ফেলে দাবি বাংলাদেশের!

মাস আর্ট-কাণ্ডে মোট ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে ইডি। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরার পর ফের বুধবার তাঁকে তলব করা হয়। এ দিনের জেরায় একাধিক সংস্থার আর্থিক লেনদেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত চলতে পারে বলে সূত্রের খবর।

google button