আবাসে বাড়ি থাকার পরেও আবেদনের হিড়িক, যাচাইয়ে নামছে প্রশাসন

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বন্যার ক্ষত এখনও পুরোপুরি কাটেনি ঘাটালে (Ghatal)। তার মধ্যেই মাটির বাড়িতে বসবাসকারী বন্যা-পীড়িত পরিবারগুলির জন্য পাকা বাড়ি তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে বীরসিংহে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ঘাটাল ব্লকের যাঁদের মাটির বাড়ি রয়েছে, তাঁদের বাড়ি পাকা (Awas Yojana)  করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বাড়ির জন্য আবেদন জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেল।

আবাস যোজনার পরেও ঘাটালে নতুন করে ১৮ হাজার আবেদন

কিন্তু সেই আবেদনের সংখ্যা দেখেই কার্যত বিস্মিত প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আবাস যোজনার আওতায় দফায় দফায় বাড়ি তৈরির বরাদ্দ পাওয়ার পরেও ঘাটাল মহকুমার সদর ব্লকে নতুন করে প্রায় ১৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন ধরে সরকারি আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পরেও এত পরিবার কেন নতুন করে বাড়ির জন্য আবেদন করছেন?

প্রশাসন সূত্রে খবর, জমা পড়া ১৮ হাজার আবেদনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় বেশ কিছু গরমিল নজরে এসেছে। সেই কারণে প্রায় ৯ হাজার আবেদন নতুন করে যাচাই করার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি আবেদনগুলির একাংশ অনুমোদনও পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে আবেদন জমা পড়া বা প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হওয়া মানেই যে প্রত্যেক আবেদনকারী চূড়ান্তভাবে বাড়ি তৈরির টাকা পাবেন, তা নয়। প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করতে প্রশাসনের তরফে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে দার্জিলিং যাওয়ার সুযোগ, হাওড়া-এনজেপি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের

কী বলছে প্রশাসন?

ঘাটালের বিডিও অভীক বিশ্বাস জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর ঘাটাল ব্লকে প্রায় ১৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৯ হাজার আবেদন যাচাইয়ের জন্য ফেরত এসেছে। সেগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন নির্দেশিকায় বাড়ির যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনও বাড়িতে পাকা দেওয়াল থাকলেও যদি ছাদ না থাকে, সে ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পরিবার বাড়ি তৈরির আর্থিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ পাকা বাড়ি না থাকলেও পাকা দেওয়াল রয়েছে কিন্তু ছাদ নেই এমন বাড়ির বাসিন্দারাও আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই নিয়মের কারণেই আবেদনকারীর সংখ্যা একলাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে ব্লক প্রশাসন। তবে আবেদনকারীদের প্রত্যেকেই প্রকৃতপক্ষে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যখন বাড়ি তৈরির সহায়তার ঘোষণা করেছেন, তখন প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা তার সুফল পাবেন। মাটির বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলি যাতে পাকা বাড়ি তৈরির সুযোগ পান, সেটাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

google button