হাওয়া দিলেই দুলছে, এবার ভাঙা হতে পারে লেকটাউনের ৭০ ফুটের মেসি মূর্তি

Published:

Lionel Messi

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলে সল্টলেক স্টেডিয়ামের গেটের (Kolkata) মুখেই তৈরি হয়েছিল কোমরের উপর বিশ্ববাংলার লোগোযুক্ত ফুটবলের এক বিদঘুটে মূর্তি! যদিও রাজ্যে পালাবদল হতেই সম্প্রতি ভাঙা হয়েছে সেটি। এরই মাঝে এবার শিরোনামে এল লেকটাউনে উদ্বোধন হওয়া লিওনেল মেসির (Lionel Messi Statue) বিরাট মূর্তি। কিছু সূত্র মারফত খবর, লেকটাউনের মেসি মূর্তিটিকে ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে মূর্তির একটি ভিডিও। সেখানে মূর্তিটিকে হাওয়ায় দুলতে দেখা গিয়েছে। আর তারপরেই প্রশ্ন উঠছে পথচলতি মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে।

ভেঙে ফেলা হবে মেসির বিরাট মূর্তি?

গত বছর, 13 ডিসেম্বর শহরে পা রেখেছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। ঠিক তার আগেই লেকটাউনে তৈরি হয়েছিল মেসির বিরাট এক মূর্তি। পরবর্তীতে লিওনেল মেসির আগমনে উদ্বোধন করা হয় সেই মূর্তিটি। এবার কিছু মাস যেতে না যেতেই সেই মূর্তি ভেঙে ফেলার জল্পনা বেড়েছে। কলকাতার ভিয়াইপি রোডের উপর প্রায় 70 ফুট উচ্চতার লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তি মাথা উঁচু করে দেখতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই মূর্তি আবেগের থেকে কিছু কম নয়।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসির সুবিশাল মূর্তি কলকাতার বুকে তৈরি করা হোক তা নিয়ে বারবার আবেদন জানিয়েছিলেন শহরের ফুটবলপ্রেমীরা। সেই মতোই তৈরি হয় মূর্তিটি। যদিও এই মূর্তি তৈরি দায়িত্ব ছিল লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের উপর। আর এই ক্লাবের সাথেই যোগ ছিল সদ্য ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর। যে কারণে মূর্তি তৈরির পর থেকেই নানান ভাবে বেঁধেছিল বিতর্ক। কেউ কেউ মনে করেন, সুজিত বসুসের উদ্যোগে তৈরি মূর্তিটির সাথে মেসির মুখের আদলের মিল একেবারে নেই বললেই চলে। কেউ কেউ ওই মূর্তির সাথে বলিউড অভিনেতা ঋত্বিক রোশনের মিল খুঁজে পান।

বিগত দিনগুলিতে স্থানীয় অনেকেরই দাবি ছিল, লোকোমুখে প্রচার পাওয়ার জন্যই তড়িঘড়ি ওই মূর্তিটি বানিয়ে ছিলেন সুজিত ঘনিষ্ঠরা। আর এই মূর্তি তৈরিতেও নাকি দুর্নীতি হয়েছে বলেই অভিযোগ করেন তাঁরা। এরই মাঝে এবার লেকটাউনের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। 70 ফুটের বিশাল মূর্তিটি ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে নেই। মাঝেমধ্যেই জোরে হাওয়া দিলে, নাকি দুলে উঠছে ওই মূর্তি। আর তাতেই নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। অনেকের বক্তব্য, মূর্তির নিচের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় সেটি যখন তখন ভেঙে পড়তে পারে।

 

অবশ্যই পড়ুন: ঝুলিয়ে রেখেছিল প্রাক্তন সরকার, দ্বিতীয় ধাপেও দ্রুত শেষ হল চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ

বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই ইতিমধ্যেই লেকটাউন থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট মূর্তি তৈরি করার সময় নিরাপত্তা মানা হয়নি। ওই মূর্তিটি তৈরি করার ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। না হলে এত অল্প সময়ের মধ্যেই মূর্তির এমন দশা হয়। অভিযোগ, পূর্ত দপ্তরের অনুমতি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়াই ওই মূর্তি বানানো হয়েছে। এখন সেই মূর্তি ভেঙে পড়ার পর্যায়ে। এমতাবস্থায়, কয়েকটি সূত্র মারফত খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে খুব শীঘ্রই ভেঙে ফেলা হতে পারে মেসির বিরাট মূর্তি।