প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখন থেকে শিলিগুড়ি (Siliguri) থেকে পাহাড় যাওয়া যাবে নির্বিঘ্নে! কারণ পাহাড়ি অঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সুভাষ ঘিসিং মার্গ এবং দার্জিলিং-লেবং-রাঙ্গেড়ুং- ৩ নম্বর মাইল সার্কুলার রোডকে সরকারিভাবে নিজেদের অধীনে নিয়ে নিল রাজ্যের পূর্ত দফতর (Government Of West Bengal)৷ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই উত্তরবঙ্গে (North Bengal) উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। আর এবার সেখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা ও যোগাযোগ পরিকাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এল৷
বড় পদক্ষেপ রাজ্যের পূর্ত দফতরের
সম্প্রতি, নবান্ন থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, যেখানে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই সড়কপথ, সুভাষ ঘিসিং মার্গ (রোহিনী রোড) এবং দার্জিলিং-লেবং-রাঙ্গেড়ুং- ৩ নম্বর মাইল সার্কুলার রোডকে সরকারিভাবে নিজেদের অধীনে নিয়ে নিচ্ছে রাজ্যের পূর্ত দফতর। এখন থেকে সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হতে চলেছে। আসলে গত ২৩ জুন, জিটিএ-এর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ওই পথ দু’টির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সেগুলিকে রাজ্য পূর্ত দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল। আর সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নবান্নের তরফে জারি হল নির্দেশিকা
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, শিলিগুড়ি ও সমতলের সঙ্গে সংযোগকারী সুভাষ ঘিসিং মার্গ রোড হল অন্যতম ব্যস্ততম পথ। এমনকি, দার্জিলিং-লেবং-রাঙ্গেড়ুং- ৩ নম্বর মাইল সার্কুলার রোডকেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এত দিন ওই দুটি রাস্তা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পথচারীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই দায়িত্ব রাজ্য পূর্ত দপ্তর গ্রহণ করায়, সেই সমস্যা এ বার মিটবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যেই উত্তর অঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রয়োজনীয় নতুন সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ-সহ নিরাপদে চলাচলের জন্য প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরও পড়ুন: ‘আগামী সপ্তাহেই আসতেই চলেছে বড় চমক..’ ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত কল্যাণের
নবান্নের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পূর্তমন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি পাহাড়ের বিধায়কদের নিয়ে এই দু’টি রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। আর সেই দাবি মেনে নেওয়ায় আমি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রাস্তাগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার হলে যাতায়াতে যানজট কমবে, পর্যটকদের পথচলা সুগম হবে এবং অঞ্চলের পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে। একইসঙ্গে চা ও কৃষি পণ্যের পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হবে। পূর্ত দফতর দায়িত্ব নেওয়ায় আগামী দিনে পাহাড়ে যাতায়াত আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগামী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।









