সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আপনিও কি হাওড়ার (Howrah) বাসিন্দা বা কাজের সূত্রে হাওড়ায় রোজ যাতায়াত করতে হয়? তাহলে আপনার জন্য রইল দারুণ সুখবর। সরকারের নজরে এসেছে হাওড়া বাস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে মাছের বাজার।। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কিছু সময়ের মধ্যে আমূল বদলে যেতে পারে হাওড়া স্টেশনও ও সংলগ্ন কিছুটা জায়গা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক ধাক্কায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একদম বিশ্বমানের মাছের বাজার তৈরির পরিকল্পনা করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। লিফট থেকে শুরু করে চলন্ত সিঁড়ি সবই থাকতে পারে বলে খবর।
বিশ্বমানের মাছ বাজার তৈরি হবে হাওড়ায়!
যারা মাছ খেতে বা মাছ ব্যবসায়ী তাঁদের কথা মাথায় রেখে বড় পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। হাওড়ায় যেখানে হোলসেল মাছের বাজার রয়েছে সেখানেই একদম অত্যাধুনিক বিশ্বমানের মাছ বাজার কয়েকশো কোটি টাকায় তৈরির কথা ভেবেছে সরকার। এই নিয়ে তোড়জোড় অবধি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। এমন এক উন্নত মানের মাছের বাজার তৈরি হবে যা হাওড়াবাসী আগে কখনও দেখেছেন কিনা সন্দেহ।
একটি ছয় তলা বিল্ডিং হবে, এরপর সেটার মধ্যে মাছ বাজারটিকে স্থাপন করা হবে। এমনকি পার্কিং-এর ব্যবস্থাও থাকবে বলে খবর। এই বিষয়ে গত সোমবার হাওড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে হাওড়া স্টেশন চত্বর পরিদর্শন করতে এসে মাছের বাজার নিয়ে রাজ্য সরকারের এহেন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেনন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই।
বড় বার্তা মন্ত্রীর
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘আমরা আজ দেখে গেলাম, এরপর পরিকল্পনা করে সব কাজই খুব তাড়াতাড়ি শুরু করব। হাওড়া বাসস্ট্যান্ডের কাজ একটু বড় আছে। মাছ বাজারে মার্কেটিংয়ের আলাদা জায়গা হবে। ওখানে যে সমস্ত কর্মচারীরা কাজ করেন তাঁদের থাকার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা করা হবে। কর্মচারীদের জন্য আধুনিকমানের স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হবে। মাছের বাজারে যে সমস্ত বিক্রেতারা আসবেন তাঁদেরও থাকার জায়গা করা হবে।’
বদলে যাচ্ছে হাওড়া বাসস্ট্যান্ডও?
এদিন মন্ত্রী উমেশ রাই ছাড়াও এই পরিদর্শনে ছিলেন হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া, পুর কমিশনার তেজস্বী রানা, কেএমডিএ, রেল ও হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা। প্রশাসনের আধিকারিকরা থেকে শুরু করে উমেশ রাই হাওড়া ব্রিজে নামার মুখ, হাওড়া স্টেশনের সাবওয়ে, হাওড়া বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখেন। মন্ত্রী হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে হাওড়া স্টেশনের উন্নয়ন নিয়ে বড় বার্তা দেন যা সকলকে খুশি করে দিতে যথেষ্ট। তিনি জানান, ‘হাওড়া বাসস্ট্যান্ডের কাজ একটু বড় আছে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ডের কাজ আমরা অস্থায়ীভাবে শুরু করছি। আমরা এর জন্য পরিকল্পনা করে নিয়েছি। হাওড়া বাসস্ট্যান্ড যেটা ভেঙে পড়ছে এখানে আমরা নতুন শেড করার কাজ করছি। সেটা খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে।
আরও পড়ুনঃ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে কমিশনকে দ্বিতীয় চিঠি মমতার, হবে নিষ্পত্তি?
স্টেশন প্রসঙ্গে উমেশ রাই বলেন, ‘এছাড়াও আগামীদিনে আমাদের হাওড়া স্টেশন চত্বরকে নিয়ে আরও বড় পরিকল্পনা আছে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ডের ছাদ ভেঙে পড়ছে। সাবওয়েতে ঢুকে গেলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চারদিকে অব্যবস্থা। কলকাতা বাসস্ট্যান্ড, হাওড়া বাসস্ট্যান্ড, দিঘা বাসস্ট্যান্ডে চারদিকে নোংরা আর ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। আমাদের পরিকল্পনা হাওড়া স্টেশনকে আধুনিক করা। একটা টাস্ক ফোর্স তৈরি করবো যে টাস্ক ফোর্স পুরো বিষয়টা নিয়ে পরিকল্পনা করবে। আগামীদিন যাতে এখানকার মানুষ বাস যাত্রী, ট্রেন যাত্রী সবাই ভালো পরিষেবা পেতে পারে। আধুনিক পরিষেবা পেতে পারে সেই কাজের জন্যই আমরা এখানে একত্রিত হয়ে ঘুরেছি, দেখেছি। এটা রাজ্যের মুখ্য দুয়ার। গত ৫০ বছর এখানে কোনও উন্নয়ন হয়নি।’










