সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলার প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে (West Bengal Election 2026)। তবে তার মধ্যেই বড়সড় অশান্তির সাক্ষী থাকল বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের খয়রাশোল (Khoyrasol)। ইভিএমের কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে খয়রাশোলের বুধপুর গ্রাম। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে উত্তেজিত জনতাকে ঠেকাতে পুলিশকে পকেট থেকে পিস্তল বার করতে হয়।
ইভিএম বিভ্রাটের অভিযোগ
আসলে বৃহস্পতিবার বিকেলে খয়রাশোল ব্লকের ৬৫ নম্বর বুথে উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে। স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএম-এ তৃণমূলের প্রতীকে ভোট দিলে তা নাকি বিজেপির পক্ষে পড়ছে। এতে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বুথের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শাসক দলের কর্মীরা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় আধঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। একসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে।
এমতাবস্থায় বিকেল গড়াতেই সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক অবস্থায় রূপ নেয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ভোট কর্মীদের উপরেই চাপ সৃষ্টি করে এবং ভোট বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। জওয়ানদেরকে লক্ষ্য করে শুরু হয় মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি। একের পর এক সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
আরও পড়ুন: সহজে মিলবে টিকিট! কলকাতা থেকে বৈষ্ণোদেবী যাওয়া ভক্তদের জন্য বড় ঘোষণা রেলের
এদিকে উত্তেজিত জনতার ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন জওয়ান আহত হয়েছেন বলেও খবর। একজনের গাল থেকে রক্ত ঝরতেও দেখা যায়। আর পুলিশের একটি গাড়িও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং আক্রান্ত জওয়ানদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য পকেট থেকে পিস্তল বের করেন কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক, এবং জনতাকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি যা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।










