অনন্যা সরকার, কলকাতা: পুজোর পরেই কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) নির্বাচনের দামামা বেজে উঠবে। তাই এখন থেকেই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। পানীয় জল, রাস্তাঘাট ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পুর পরিষেবাগুলির ঘাটতি পূরণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে পুর প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতেই এবার নাগরিকদের জন্য বকেয়া করের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। শোনা যাচ্ছে যে, সম্পত্তি কর (Property Tax) খাতে বকেয়া আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার ধার্য করা সমস্ত সুদ এবং জরিমানা বা পেনাল্টি মকুব (Waiver Scheme) করা হবে। আসুন এবিষয়ে বিষয়ে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
বাকি থাকা সম্প্রতি করের পেনাল্টি দিতে হবে না নাগরিকদের
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে যে ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ইনসেনটিভ (ওয়েভার অব ইন্টারেস্ট অ্যান্ড পেনাল্টি টু দা প্রপার্টি ট্যাক্স পেয়ার্স) স্কিম, ২০২৬’ চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পৌরসভার কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি ‘বাম্পার ওয়েভার’ হতে চলেছে। এর আগেও পৌরসভা একাধিকবার সম্পত্তি করের বকেয়ার ওপর সুদ এবং জরিমানার কিছুটা অংশ মকুব করার জন্য ‘ওয়েভার স্কিম’ ঘোষণা করেছে। দেখা গেছে এতে অনেক করদাতাই তাদের বকেয়া কর মেটানোর জন্য উৎসাহিত হন।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পর থেকে এই মকুব প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। তাই নগরবাসীকে আবারও সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বিস্তারিত আলোচনার পর পুরসভা সমস্ত সুদ ও জরিমানা মকুব করার জন্য নবান্নে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, রাজ্য সরকার সম্প্রতি সেই প্রস্তাবে অনুমোদনও দিয়েছে। ফলে এই সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি খুব শীঘ্রই প্রকাশ পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগেই এই জরিমানা মকুবের সুবিধা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের আগে ফের ঝটকা মমতার! TMC ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন ১০০ নেতা
পুরসভার অন্দরের খবর, সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন সম্পত্তির বকেয়া করের ওপর সুদ ও জরিমানার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ছাড় মিলবে। অর্থাৎ, বকেয়া ছাড়া আর অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না। যেসব সম্পত্তি আবাসিক ও বাণিজ্যিক – উভয় কাজেই ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে সুদ ও জরিমানার ওপর যথাক্রমে ৮০ শতাংশ ও ৯৯ শতাংশ ছাড় মিলবে। আর যেসব সম্পত্তি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে সুদ ও জরিমানার ওপর যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৯৯ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা থাকবে।
আরও পড়ুন: যে বাসে ভ্রমণ সেই বাসই বাজেয়াপ্ত করে শিরোনামে, কে IAS নরেন্দ্র সূর্যবংশী?
এই ছাড়ের সুবিধা পেতে হলে পুরসভার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে বকেয়া কর পরিশোধ করতে হবে। একবারে না দিয়ে, কিস্তিতেও টাকা মেটানোর সুযোগ দেওয়া হবে নাগরিকদের। উল্লেখ্য, বাকি পড়ে থাকা বিপুল সম্পত্তি কর যথাসম্ভব আদায়ের উদ্দেশ্যে মাঝেমধ্যেই বিশেষ ছাড়ের কর্মসূচি চালু করা হয় পুরসভার তরফে। দু-তিন বছর আগে একটি ধাপভিত্তিক ছাড় বা গ্রেডেড ওয়েভার কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল, যা সারা বছর কার্যকর ছিল। সেই ব্যবস্থায় বকেয়া থাকার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ছাড়ের হার নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ বকেয়া যত দীর্ঘ সময়ের, ছাড়ের হার ততই কম। তবে আগের সেই ছাড়ের কর্মসূচিটি আবার চালু করার পরিকল্পনা করছে কিনা কলকাতা পুরসভা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।










