কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মেসি কাণ্ডে কাজের কাজ করে দেখাল পুলিশ

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসির সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Saltlake Stadium)। যেই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কত দিনের মধ্যে সেই কমিটি গঠন করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সেটাও জানিয়ে দিয়েছিল উচ্চ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে বলা হয়েছিল, পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি তৈরি করতে হবে। এবার আদালতের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিটি তৈরি করে ফেলেছে পুলিশ। সেই মতোই, বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশ জানায় তারা মেসি কাণ্ডের রিপোর্ট জমা দিতে চায়। আর তারপরই পুলিশের আবেদন মেনে অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

আদালতের নির্দেশ মেনে রিপোর্ট জমা দিচ্ছে পুলিশ

গত বছরের ডিসেম্বরে শহরে এসেছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাঁকে দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় জমিয়েছিলেন দর্শকরা। কেউ স্বল্প বেতন থেকে টাকা বাঁচিয়ে কেটেছিলেন মেসির ইভেন্টের টিকিট। কেউ আবার টাকা ধার করে মেসিকে দেখতে টিকিট কেটেছিলেন। তবে সবটাই জলে যায় সেদিন। মেসিকে দেখতে এসে এদিন প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সহ তাঁকে লেপ্টে থাকা বাকিদের ভিড় দেখতে হয়েছে দর্শকদের। মেসি তো দূর ভিড়ের মধ্যে মেসির বন্ধুদেরও দেখতে পাননি ভক্তরা। আর সেখান থেকেই তৈরি হয় ক্ষোভ। যার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হয়েছিল তা কমবেশি প্রত্যেকেরই জানা।

যুবভারতীর বিশৃঙ্খলায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরেই গ্রেফতার করা হয় মেসিকে ভারতে নিয়ে আসার নেপথ্যে মূল কারিগর শতদ্রু দত্তকে। এদিকে শতদ্রুর অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠদের ভিড়ে মেসিকে দেখতে পাননি দর্শকরা। রাজ্যে পালাবদলের আগে অবশ্য এ বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

অবশ্যই পড়ুন: ভুয়ো প্ল্যান, জাল নথি! কেজিএন প্লাজা কাণ্ডে দেবরাজের বিরুদ্ধে FIR তরুণজ্যোতির

মেসি কাণ্ডে গত বছর বিধাননগর থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হলে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রুকে। ওদিকে এই ঘটনায় মামলার শুনানি চলছিল কলকাতা হাইকোর্টেও। সেই শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনেই বুধবার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয় তারা রিপোর্ট জমা দিতে চায়। এরপরই বিচারপতি সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।