হিন্দু হোক বা মুসলিম, বিয়ের বয়স নিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের

Published:

Minimum Age of Marriage

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে বড় রায় দিল হাইকোর্ট। আদালতের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিয়ের ন্যূনতম বয়স (Minimum Age of Marriage) নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন নয়, বরং প্রোহিবিশন অফ চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্ট ২০০৬ এর বিধান দেশের সমস্ত নাগরিকের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। আদালতের মতে, কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। যার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে আইনসম্মত বলেও দাবি করা যায় না।

বড় রায় হাইকোর্টের

আসলে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বুলন্দ শহরে এক ১৬ বছরের কিশোরীর বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। অভিযোগ ছিল, অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই কিশোরীর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু খবর পেয়ে চাইল্ড লাইন দফতর এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর সেই সময় কর্তব্যরত আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সূত্রে এই ঘটনার পর দাঁয়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল অভিযুক্ত পক্ষ।

আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে অর্থাৎ ১৫ বছর বয়সের পর তার বিয়ে পবিত্র বলে ধরা হয়। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট বিয়েকে বেআইনি বলা উচিত নয়। এমনকি তাদের আরও দাবি ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল এবং অন্যান্য আইন বিধান এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল।

আরও পড়ুন: মেসিকে থামায় কে? এবার কিংবদন্তী মারাদোনার বিশ্বরেকর্ড ভেঙে চুরমার করলেন লিও

কিন্তু হাইকোর্ট জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন আদালতে এই ধরনের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও বর্তমান মামলায় আদালত এরকম মত গ্রহণ করেছে, যেখানে শিশু সুরক্ষা সম্পর্কিত কেন্দ্রের আইনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিয়ের নূন্যতম বয়স সেটাই হবে যা প্রোহিবিশন অব চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্টে নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মভেদে তার কোনও পরিবর্তন হতে পারে না। এমনকি আদালত আরও জানিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনও ব্যক্তির বিয়ে হলে তা শিশু সুরক্ষা আইন তথা পকসো আইনের ধারায় অপরাধযোগ্য।