‘দুজনের সঙ্গে কতটা মিল!’ DA থেকে শিক্ষক বদলি, দুই মুখ্যমন্ত্রীকে মেলালেন মলয়

Published:

malay Mukherjee Dearness allowance

সহেলি মিত্র, কলকাতা: ফের একবার চাঁচাছোলা মন্তব্য করলেন ডিএ (Dearness allowance) মামলাকারি মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)। এমনিতেই ডিএ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মীরা। কবে বকেয়া মিলবে? উত্তর জানা নেই কারোর। এদিকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সঙ্গে সরকারি কর্মীদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সেটাও বাতিল হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রেগে কাঁই হয়ে আছেন সকলে। এরই মাঝে রাজ্যের প্রাক্তন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বিরাট ‘মিল’ খুঁজে পেলেন মলয়বাবু। জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ঠিক কোথায় মিল রয়েছে।

মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে মিল খুঁজে পেলেন মলয় মুখোপাধ্যায়!

ডিএ প্রসঙ্গ টেনে এনে কটাক্ষ করে মলয় মুখোপাধ্যায় ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘তৃণমূলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কেন্দ্রীয় হারে ডিএ চাইলে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করুন। এদিকে বিধানসভায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বদলি প্রথা চলবে না, না পোষালে চাকরি ছাড়ুন। দুজনের সঙ্গে কতটা মিল তাই না।’ এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘University এর অধ্যাপক রা এক ই স্থানে বছরের এর পর বছর চাকরি করবে, ক্লাস ইচ্ছে হলে করবে না করবে না, রাজনীতি করবে এটা চলতে পারে না সরকার ঠিকই করেছে।’

কী প্রতিক্রিয়া মানুষের?

অনেকে মুখ্যমন্ত্রীর কথাকে সমর্থন করেছেন কেউ কেউ আবার সমর্থন জানাননি। ঘটনার প্রেক্ষিতে একজন লিখেছেন, ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যখন তিন বছর অন্তর অন্তর বদলি র একটা প্রথা আছে বা নিয়ম আছে, সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অধ্যাপিকা দের বদলির নীতি প্রবর্তন সমর্থনযোগ্য। এতদিন এই প্রস্তাবটা কেউ ভাবেননি বা চালু করেননি কেন সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।’ আরেকজন বলেছেন, ‘মলয় বাবুর প্রধান কাজ সবারই কাজে বিরোধিতা করা। সরকারি কাজে বদলির প্রথা আছে এবং থাকবে এটাই স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুনঃ এক সপ্তাহ পিছল উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা, নয়া সূচি জারি WBCHSE-র

অপর একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বিশ্ব বিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার জন্যে একজন মানুষকে কতটা পরিশ্রম করতে হয় তা একজন রাজনীতিকের বোধের শতেক যোজন দূরে অবস্থান করে। তাই এই নিয়ে ভেবে আর কিইই বা করা যাবে?’ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক বদলি বিল পেশ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিক্ষা বিল সংশোধনী বিধানসভায় পেশ হওয়ার সময় বিলের সমর্থনে সরকারপক্ষ, বিরোধিতায় ছিল বিরোধীপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী বিলের সমর্থনে বলতে ওঠামাত্রই বিরোধীদের স্লোগান ওঠে।  অধ্যাপক বিল কেন প্রয়োজন তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “বিরোধীরা বলছেন শিক্ষায় গেরুয়াকরণের চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এই শব্দবন্ধ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমরা এটা করব না। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল। মমতা মমতায়ন করেছিল। আমরা তা করব না। এক শিক্ষানীতিতে রাজ্য চলবে। তাই শিক্ষাবিদদের যুক্ত করেছি। সমস্ত স্তরের ছাত্ররা সরকারি সাহায্য নিয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হবে সেটা চাই। তারা সমাজের দায়িত্ব পালন করুক। বদলের চাকরি, বদলি হয়ে যান। অসুবিধা থাকলে চাকরি ছেড়ে দিন। ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।”