গঙ্গার জলোচ্ছ্বাসে ভাঙল ভূতনির বাঁধ, হু হু করে ঢুকছে জল, বন্যা পরিস্থিতি মালদায়

Published:

Malda Flood

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আশঙ্কাই হল সত্যি..গঙ্গার জল বেড়ে ভেঙে পড়ল মালদহের (Malda Flood) মানিকচক ব্লকের ভূতনি চরের (Bhutni Char) বাঁধ। জানা গিয়েছে, গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গার জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়েছিল সেই বাঁধ, আর সঙ্গে সঙ্গেই হু হু করে জল ডুকছে ভূতনিতে। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ভিডিও। তলিয়ে যায় এলাকার বহু ঘরবাড়ি-সহ চাষের জমি (Ganga Water Enters Bhutni)। আপাতত ভরা গঙ্গার মধ্যে বাঁশ পুঁতে, বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর চেষ্টা শুরু করেন সেচকর্মীরা। সরকার বদলের পরেও প্লাবনের আশঙ্কা এবং জলবন্দি হওয়ার পুরনো স্মৃতি ফিরে এসেছে ভুতনিবাসীদের মনে।

বাঁধ ভেঙে হু-হু করে জল ঢুকছে

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গার জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়েছে মালদার মানিকচকের ভুতনিচরের কেশরপুর কাল্টুনটোলার বাঁধ। বাঁধের প্রায় কুড়ি মিটার অংশ ভেঙে রীতিমত হু-হু করে জল ঢুকছে ভুতনি চর এলাকায়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বেশ আতঙ্কিত গ্রামবাসী। সেচ দফতরের আশঙ্কা, জল আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই রতুয়া-১ ব্লকের কান্তটোলা, শ্রীকান্তটোল গঙ্গার গ্রাসে চলে গিয়েছে। আর এখন বিপদের মধ্যে রয়েছে ভূতনি চরের কালুটোনটোলা।

কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক?

সূত্রের খবর, ভুতনি চরের বিস্তীর্ণ অংশ অর্থাৎ উত্তর চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ এলাকা যাতে প্লাবিত না হয়, সেই জন্য ময়দানে নেমেছে সেচ দফতরের আধিকারিকেরা। তাঁরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বালি-মাটিভর্তি বস্তা ফেলে জলের স্রোত আটকানোর চেষ্টা করেছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, “গত ১৫ বছরের সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বর্ষার মরসুমে শুধু বস্তা ফেলে টাকা লুট করেছে। এর খেসারত এখন দিচ্ছেন ভুতনিবাসী। আপাতত প্লাবন বিধ্বস্তদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন: ৫০-৯০% কম দাম, বাংলায় চলছে ১,০১৪টি জন ঔষধি কেন্দ্র! কোথায় কোথায়? জানুন

বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, “ রাজ্য সরকার গঙ্গার ভাঙন ও বন্যা থেকে ভুতনিবাসীকে রক্ষা করতে স্থায়ী কাজের জন্য বাজেটে অর্থ মঞ্জুর করেছে। কিন্তু বর্ষার মধ্যে কাজ শুরু করলে অপচয় হবে। তাই শুকনো মরসুমে এই কাজ শুরু হবে। আপাতত বালি-মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে জল আটকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সেচ দফতর।” উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে গঙ্গার বুকে গড়ে ওঠা এই চর ক্রমশ ক্ষয় হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষার মরশুমে গঙ্গা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি হলেই চরের ভাঙন হয়, এই বছরও সেই এক দৃশ্য।

আরও Bhutni Flood Malda