MBBS চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে বার্ধক্য, বিধবা ভাতা! কেলোর কীর্তি পশ্চিম মেদিনীপুরে

Published:

Pingla

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, পুরুষ হয়েও পাচ্ছেন বিধবা ভাতা (Widow Pension)! এমনই অভিযোগ উঠে এল গ্রামীণ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ‘বেনজির’ ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা (Pingla)। বাংলায় নতুন সরকার আসতেই প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক শিবিরে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে। একের পর এক এমন সব ঘটনা ঘটছে যে তা প্রকাশ্যে আসতেই চোখ কপালে উঠছে অনেকেরই। যেখানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmir Bhandar) পাওয়ার কথা ছিল মহিলাদের। সেখানে, মাসের পর মাস সেই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন বেশ কয়েকজন পুরুষ। আর এবার বিতর্কের শিরোনামে উঠে এল বিধবা ভাতা।

পুরুষ হয়ে পেতেন বিধবা ভাতা!

রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরে পিংলায় স্ত্রী, সন্তান নিয়ে একসঙ্গে থাকেন ষাটোর্ধ্ব অমলেন্দুবিকাশ মণ্ডল। পেশায় তিনি গ্রামীণ চিকিৎসক। অভিযোগ উঠে আসছে, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে নাকি ঢুকত বিধবা ভাতা। ২০২২ সাল থেকে এলাহাবাদ ব্যাঙ্কে তাঁর বিধবা ভাতার টাকা এবং ২০২৩ সাল থেকে পাঞ্জাব ব্যাঙ্কে বার্ধক্য ভাতার টাকা ঢুকছে। আর সেই নিয়ে শুরু হয়েছে কটাক্ষ, সমালোচনা। জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্তের ভাই কমল কান্তি মণ্ডল নাকি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি। অভিযোগ শাসক দলের নেতার দাদা হওয়ার সুবাদেই দিনের পর দিন এই দুর্নীতি চলছে।

দুর্নীতি নিয়ে চরম কটাক্ষ বিজেপির

কমল কান্তি মণ্ডলকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। দাদা এক জন পুরুষ হয়ে কী ভাবে বিধবা ভাতা পেতে পারেন? এটা তো ঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রশাসনের গাফিলতি।’ অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতা পবিত্র মাইতির কথায়, ‘ভেবে দেখুন, তৃণমূলের দুর্নীতি কত গভীরে। পুরুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, বিধবা ভাতাও দিয়েছে। সর্বত্রই দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি করেছে। সন্ত্রাসের কারণে মানুষ প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারেনি। এখন ধরা পড়ছে।’ অত্যন্ত সচ্ছল পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি একইসঙ্গে বার্ধক্য এবং বিধবা ভাতা ভোগ করছেন। যদিও ওই অভিযুক্ত চিকিৎসকের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: এদের বকেয়া DA মেটাচ্ছে নবান্ন, কবে পাবেন বাকিরা?

পিংলা ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই চিকিৎসককে নোটিস পাঠিয়ে ব্লক অফিসে ডাকা হয়েছে। ওই কর্তার কথায়, ‘এ ক্ষেত্রে ওঁকে সব টাকা ফেরত দিতে হবে। কারচুপি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ এদিকে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছে।