সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কোথাও ১৪০০ তো কোথাও ১৫০০ টাকা, হ্যাঁ জামাইষষ্ঠীর দিন মাছ মাজারগুলিতে ঠিক এত দামেই বিক্রি হচ্ছিল সাধের ইলিশ মাছ (Ilish)। জামাইয়ের পাতে এই মাছ দিতে গিয়ে অনেককেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। তার ওপর বাজারগুলিতে ইলিশের জোগানও খুব একটা ছিল না বলে খবর। তবে আর চিন্তা নেই, ইলিশ প্রেমীদের জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। কারণ এবার বাজারগুলিতে রীতিমতো ইলিশের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশ্বাস হচ্ছে না তো? কিন্তু এটাই সত্যি।
প্রায় ১০০ টন ইলিশ ছেয়ে গেল বাজারে
বর্ষার মরসুম শুরু হতে না হতেই এবার এক লাফে প্রায় ১০০ টন ইলিশ মাছ এসে পৌঁছাল বাজারগুলিতে। অর্থাৎ এবার রসনাতৃপ্তি হবে দারুণভাবে। জানা গিয়েছে, সপ্তাহ শেষে রাজ্যের বাজারে বাজারে এসে পৌঁছাতে শুরু করল মরসুমের ইলিশ। উৎসস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এখানের নানা মাছ ঘাট থেকে বিপুল পরিমাণে মাছ গিয়ে পৌঁছেছে ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্রবাজারে। এর ফলে এখন খুশির হাওয়া বইছে ক্রেতা থেকে শুরু করে বিক্রেতাদের মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ সহজেই মিলবে ঘর! বাংলায় আবাসে লাগু হতে পারে কোটা সিস্টেম, উদ্যোগ সরকারের
আসলে কয়েকদিন আগেই শয়ে শয়ে মৎস্যজীবীদের ট্রলার পাড়ি জমিয়েছিল সমুদ্রে। আর সেখান থেকে কিন্তু কেউ খালি হাতে ফেরেনি। টন টন মাছ নিয়ে ফিরেছে ট্রলারগুলি। নামখানা, কাকদ্বীপ, রায়দিঘি-সহ উপকূলের একাধিক এলাকা থেকে গত কয়েক দিনে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে বলে খবর। ভালো সাইজ ও ওজনের। আর সেগুলিই এখন বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্রবাজার নিয়ে তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই। বাংলার অন্যতম বড় মাছের পাইকারি বাজার হল এটি।
খুশি ব্যবসায়ী থেকে মৎস্যজীবীরা
এখান থেকেই কলকাতা সহ বাংলার বহু মাছ বাজারে ইলিশ সহ নানা মাছ যায়। কিন্তু বর্ষাকালে এই জায়গা যেন আরও গমগম করে ওঠে। অনেকে শুধুমাত্র এই বাজারে এসে আইস বক্সে করে মাছ নিয়ে বাড়ি যান। মৎস্যজীবী থেকে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পুরোপুরি বর্ষা ফুল দমে শুরু না হলেও সমুদ্রের পরিস্থিতি ও আবহাওয়া অনুকূল হওয়ার কারণে প্রত্যাশার থেকে বেশি অনেক আগেই বিপুল পরিমাণে মাছ জালে তুলতে পেরেছেন মৎস্যজীবীরা। মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে অলোক হালদার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘চলতি মরশুমের শুরু থেকেই জালে ভাল পরিমাণ ইলিশ উঠছে। নামখানা, কাকদ্বীপ, রায়দিঘি-সহ একাধিক জায়গা থেকে ডায়মন্ড হারবারে প্রায় ১০০ টনের বেশি ইলিশ এসেছে। এত অল্প সময়ে এত মাছ ওঠায় আমরা আশাবাদী।’










