কলকাতায় বসে পাকিস্তানের চরবৃত্তি! NIA-র হাতে গ্রেফতার জাফর রিয়াজ

Published:

NIA Arrested Pak Spy

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কলকাতায় বসে পাকিস্তানের চরবৃত্তি! গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে বুধবার ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল NIA (NIA Arrested Pak Spy)। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়া ওই ব্যক্তি আসলে কলকাতারই (Kolkata) বাসিন্দা। দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার এই ভয়ংকর অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃত ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রেখে চলছে তদন্ত।

কলকাতায় বসে পাকিস্তানের চরবৃত্তি

NIA সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি। দীর্ঘদিন ধরেই নাকি সে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রাডারে ছিল। আসলে কয়েক মাস আগেই ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে ওটিপি পাঠানোর অভিযোগে মুর্শিদাবাদের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিলেন NIA আধিকারিকরা। সেখানেই জাফর রিয়াজের নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তাঁকে ট্র্যাক করা শুরু করেন তদন্তকারীরা। এনআইএ আধিকারিকরা জানতে পারেন, পাক গুপ্তচরবৃত্তিতে যুক্ত অন্যদের কাজের সাহায্যে খোলা হতো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। আর তা খুলতে ভারতের মোবাইল নম্বরের OTP পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের কাছে ধৃত পৌঁছে দিত।

NIA-র জালে সন্দেহভাজন

জানা গিয়েছে, জাফর রিয়াজের বিরুদ্ধে NIA-র তরফে আগেই একটি লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছিল। আর এসবের মাঝেই শেষরক্ষা হল না জাফরের। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তদন্তে জানা গিয়েছে, জাফরের স্ত্রী একজন পাকিস্তানি এবং তাঁর সন্তানও পাকিস্তানেরই নাগরিক। বিগত কয়েকবছর পাকিস্তানেই কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু কী কারণে কলকাতায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন জাফর সেটাই জানার চেষ্টা করছেন NIA আধিকারিকরা। এদিকে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই ওটিপি পাচারের সঙ্গে জড়িত রাজস্থানের মোতিরাম জাঠ নামে এক ব্যক্তি। তিনি গোপনে ভারতের বিভিন্ন তথ্য ইসলামাবাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দিত। এখন সেই নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: অভিষেক-সায়নী নাম মিলতেই ভাইরাল ‘Abhi-Sani’ ফ্ল্যাট, মুখ খুললেন আসল মালিক

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের চরবৃত্তি চক্রের জাল যে শুধু কলকাতা বা রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, তা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত NIA। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির আন্তর্জাতিক র‍্যাকেটের পেছনে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে, দেশের কোন কোন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে সেই সব কিছুর খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোর কদমে তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। এখন দেখার এর ফলাফল কোন ভয়ংকর পর্যায়ের রূপ নেয়।