আরও বিপাকে শওকত মোল্লা! ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় এবার যুক্ত হল UAPA ধারা

Published:

Saokat Molla

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আইনি জটে আরও ফাঁসল শওকত মোল্লা (Saokat Molla) জানা গিয়েছে, ভাঙড়ে বিজয়গঞ্জ বাজারে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় (Bhangar Blast Case) ক্যানিংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা-সহ চারজনের বিরুদ্ধে UAPA ধারা যোগ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। শুক্রবার এনআইএ-র বিশেষ আদালতে এই বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি দেবাশিস মল্লিক চৌধুরি ইউএপিএ ১৬ ও ১৮ ধারা প্রয়োগের জন্য আবেদন করেছিল, জানা গিয়েছে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

UAPA ধারা যোগ হল ভাঙড় মামলায়

ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে চার্জশিটে ‘ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ’ মামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল NIA। তদন্তের মারফত এনআইএ জানিয়েছে, ঘটনায় তিনিই অন‍্য অভিযুক্তদের বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন এমনকি শওকত বিস্ফোরণস্থলের তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার জন্য অন্য অভিযুক্তদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশেই রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি গ্রহণ করার পর এনআইএ তদন্ত করছে। আর তাই এবার NIA এই ঘটনায় UAPA ধারা যোগ করা জরুরি বলে মনে করছে। এবং সেই মতোই বিশেষ আদালতেও আবেদন করে NIA।

বিশেষ আবেদন NIA-এর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ এনআইএ আদালতে ভাঙড় বিস্ফোরণের ঘটনার মামলায় শওকত মোল্লা-সহ চারজনের বিরুদ্ধে UAPA ধারা প্রয়োগের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি দেবাশিস মল্লিক চৌধুরি। বিচারক অনুপম মাইতির এজলাসে ওই আবেদন করা হয়েছিল। UAPA ১৬ ও ১৮ ধারা প্রয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এবার শওকত মোল্লা সহ চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার আইনি গুরুত্ব আরও বাড়তে চলেছে।

আরও পড়ুন: এই ৩ নথি থাকলেই আবাস যোজনার সুবিধা, কবে আবেদনের শেষ দিন? জানুন

উল্লেখ্য, ভাঙড়ে বিস্ফোরণ কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই শওকতকে খুঁজছিল NIA। এমনকি তাঁকে ফেরার ঘোষণাও করা হয়েছিল। আর সেই সময় শওকত মোল্লা বাংলাদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন। শেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীমান্ত সংলগ্ন চুনাখালির কাছে তাঁকে স্থানীয় বাসিন্দারা চিনতে পেরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল এর তাই দেখে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়েছিল শওকত। অবশেষে গত ৫ জুন চিংড়িঘাটা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্যানিং এলাকার একাধিক ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল, এমনকি শওকতের ফাঁসির দাবিও উঠেছিল। এখন দেখার এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়।