গার্ডরেল, কড়াকড়ি নেই! বাড়তি নিরাপত্তা নিল না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরিবার

Published:

CM Suvendu Adhikari

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবারই শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এদিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর শহরে কিছু কার্যক্রম সেরে রাতেই সোজা কাঁথির বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। এই মুহূর্তে সেই বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাতে কড়া নিরাপত্তা বলয় মুড়ে ফেলা হয়েছিল অধিকারী পরিবারের কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িটি। সেই মতোই বাড়ির সামনে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে দেওয়া হয়েছিল গার্ডরেল। তবে সকাল হতেই অধিকারী পরিবারের অনুরোধে সরিয়ে ফেলা হলো সেসব। জানা যাচ্ছে, বাড়তি নিরাপত্তা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে অস্বস্তিতে বা সমস্যায় না পড়েন সেটা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত।

সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলতে চায় না অধিকারী পরিবার

শনিবার, কথামতো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শপথ বাক্য পাঠ করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাথে শপথ নিয়েছিলেন আরও পাঁচ মন্ত্রী। সেই কার্যক্রম শেষ করে রাতে কাঁথির বাড়িতে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে বরণ করে নিতে বাড়ির সামনে কার্যত পড়েছিল ভক্ত সমর্থকদের ঢল। শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন বহু মানুষ।

এদিন রাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িটিকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হলেও সকালে ধরা পড়ল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। দেখা গেল, রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে ফুলের বুকে হাতে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে আসা সাধারণ মানুষ সহজেই পৌঁছতে পারলেন অধিকারী পরিবারের শান্তি কুঞ্জের বাড়িটির সামনে। কোনও রকম নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পড়তে হলো না তাঁদের। এ প্রসঙ্গে ওই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে নির্দ্বিধায় যাতায়াত করতে পারছেন তারা।

 

অবশ্যই পড়ুন: তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলায় সাসপেন্ড! রামকৃষ্ণ কয়ালকে চাকরিতে ফেরাল পুলিশ? জানুন সত্যিটা

কেউ কেউ বলছেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত শুভেন্দু অধিকারীর মতোই। যিনি মানুষের সাথে মিশে থাকতে পারেন। তিনি তো মানুষের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কাছে পৌঁছতে এত নিরাপত্তা বলায় কেন পার করতে হবে?” স্থানীয়দের কেউ কেউ আবার শুভেন্দু অধিকারীর সাথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও প্রসঙ্গ টানেন। বলেন, “এর আগে যিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তাঁর ধারে কাছে যাওয়া সহজ ছিল না। এখন আমরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি কেউ বারণ করছে না।” সবমিলিয়ে, অধিকারী পরিবারের আচরণ এবং শালীনতা কোথাও না কোথাও তৃণমূল নেতৃত্বের সাথে একটা বিরাট পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছেই!