শাশুড়ির হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেল খুন দুই বৌমার! হাড়হিম করা কাণ্ড নন্দীগ্রামে

Published:

Nandigram

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নারকীয় ঘটনা নন্দীগ্রামে (Nandigram), বৃদ্ধা শাশুড়ির হাত-পা ইট দিয়ে বেঁধে পুকুরের জলে (Elderly woman found dead) ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এবার দুই বৌমার বিরুদ্ধে। মৃতার নাম কানন সামন্ত, বয়স ৭০ এর বেশি। এমন রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে। অভিযুক্ত দুই বৌমার বিরুদ্ধে রীতিমত ক্ষোভ উগরে দিয়েছে এলাকাবাসী।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে নন্দীগ্রামের শিমুলকুন্ড গ্রামে। গত মঙ্গলবার, রাত সাড়ে সাতটা-আটটা থেকে নিখোঁজ ছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা কানন সামন্ত। বাড়ির লোকজন প্রথমে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তাঁর হদিশ মেলেনি। চিন্তা বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এরপর পরেরদিন, বুধবার, সকালে ফের বাড়ির কাছেই খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের সদস্যরা, তখনই কাছাকাছি এক পুকুর থেকে ওই বৃদ্ধার হাত পা বাঁধা দেহ ভেসে ওঠে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য শুরু হতেই অভিযোগের আঙুল ওঠে দুই বৌমার বিরুদ্ধে।

ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পনা মাফিক খুন। কারণ মৃতের হাত ও পা ইট দিয়ে বাঁধা ছিল। এমনকি মৃতার স্বামী প্রভাংশু সামন্তও খুনের ঘটনায় সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁর দুই পুত্রবধূর দিকে। পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই সেই অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এদিকে পুকুর থেকে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই খোঁজ মিলছে না বাড়ির দুই বৌমার। তাঁদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতি রুখতে নয়া অ্যাপ নবান্নের

মৃতা কানন সামন্তের ভাই নারায়ণ সামন্তের অভিযোগ, “ দীর্ঘদিন ধরে দুই পুত্রবধূ শ্বশুর-শাশুড়িকে ঠিকমতো খাবার দিতেন না। নিজেদের ছেলেদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার মতো করে খাবার চেয়ে খেতে হতো তাঁদের।” এছাড়াও তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন পাশের বাড়িতে বোন টিভি দেখতে যায়। তারপর এখানে শুয়ে খাওয়া-দাওয়া করে। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে চলে গেছে টিভি দেখতে। কিন্তু ভগ্নিপতি অপেক্ষা করলেও সে বাড়ি ফেরেনি।” ইতিমধ্যেই বড় ছেলে ভীম সামন্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে ছোট ছেলে অর্জুন সামন্তের এখনও কোনও হদিশ মেলেনি। এখন দেখার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী আসে।