মাত্র ২৫২ টাকায় কেনা ভারতীয় ইলিশ পদ্মার বলে ১,৮০০ টাকায় বিকোচ্ছে বাংলাদেশে

Published:

Ilish Hilsa fish

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ইলিশ (Ilish) ভক্ত বাঙালিদের উৎসবের মরশুমে পাতে রূপোলি শস্য না পড়লে ঠিক মন ভরে না। এই রাজ্যের কোলাঘাট বা দিঘার মোহনার ইলিশের সাথে সাথে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের চাহিদাও প্রবল থাকে। তবে এবছর চিত্রটা ভিন্ন। চাহিদার তুলনায় স্থানীয় ইলিশের যোগান কম, তাই পশ্চিমবঙ্গের বাজারগুলি ছেয়ে গেছে গুজরাট ও মায়ানমারের ইলিশে। এমনকি বাংলাদেশেও ইলিশের ঘাটতি পূরণ করছে এখন ভারতের মাছ। কিন্তু এতেই তৈরি হয়েছে সমস্যা। দেখতে হুবহু এক হওয়ায় প্রায় ২৫০ টাকা কেজি পাইকারি দরে কেনা ভারতীয় মাছ পদ্মার বলে বাংলাদেশে ১,৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

কম দামে কেনা মাছ পদ্মার বলে বেশি দামে বিকোচ্ছে বাজারে

চলতি বছর জুলাই ও আগস্ট মাসে ১৯ জন আমদানিকারকের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩,৫২,৭৮৬ কেজি ইলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই এসেছে ৩,২৩,৩৪৬ কেজি এবং জুলাইয়ে এসেছে প্রায় ২৯,৪৪০ কেজি, যেগুলির মোট মূল্য প্রায় ৬.৯৩ কোটি বাংলাদেশি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ৫.৪০ কোটি)। জানা গেছে, এদেশ থেকে মাছ বোঝাই যানবাহন বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর মাছগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে ছাড়পত্র পেয়ে সেদেশের বাজারগুলিতে পৌঁছায়। 

ভারতীয় ইলিশের পাশাপাশি মায়ানমারের ইলিশও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করছে। আর এই সমস্ত মাছগুলি যশোরের বড় বাজারে পদ্মার ইলিশ বলে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। যদিও এগুলির আমদানি খরচ প্রতি কেজিতে ২৫০ থেকে ৫১৪ টাকা, তবে খুচরা বাজারে এগুলো ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ইলিশের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্রেতারা ভারতের ইলিশই কিনছেন। এক ক্রেতা জানাচ্ছেন, ভারতীয় ইলিশ ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেখতে যেহেতু এক, তাই সাধারণ ক্রেতারা মাছগুলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না। 

আরও পড়ুন: ছেড়ে চলে গিয়েছেন স্বামী, ছাগলের দুধ খাইয়ে সদ্যজাতকে মানুষ করছেন অসহায় ঝুমাদেবী

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আনার জন্য ভারতের আমদানিকারক সংস্থাগুলি আবেদন করেছে, অন্যদিকে ১৮টি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে। তবে সেদেশের উপভোক্তারা প্রশাসনের কাছে স্থানীয় ও আমদানি করা মাছের মধ্যে পার্থক্য করার লক্ষ্যে কঠোর বাজার নজরদারি এবং আমদানিকৃত মাছের প্রকৃত উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তার বিক্রি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও Bangladesh Ilish