আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কমবেশি প্রত্যেকের কাছেই মাংস একটি লোভনীয় এবং প্রিয় খাবার। এটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও, এই মাংস কী পদ্ধতিতে প্রস্তুত হয়েছে, তা নিয়ে অধিকাংশ ক্রেতাই তেমন একটা ভ্রুক্ষেপ করেন না। হালাল ও ঝটকা, এই দুই ধরনের মাংসের মধ্যে পার্থক্য (Halal vs Jhatka) নিয়ে অনেকের মনেই কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। হালাল ইসলামী বিধি মেনে পশু জবাইয়ের একটি পদ্ধতি, যেখানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে ঝটকা পদ্ধতিতে এক আঘাতে দ্রুত পশুর মৃত্যু ঘটানো হয়। সম্প্রতি রেস্তরাঁ ও খাবার সরবরাহকারী সংস্থাগুলির মাংসের ধরন নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের জেরে বিষয়টি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।
হালাল মাংস কি সত্যিই বেশি স্বাস্থ্যকর?
হালাল মাংসকে ঘিরে অনেক প্রচলিত ধারণা রয়েছে। সেগুলির মধ্যে একটি হল, এই পদ্ধতিতে জবাই করলে শরীরের রক্ত বেশি পরিমাণে বেরিয়ে য়ায়। তাই সেই মাংস তুলনায় স্বাস্থ্যকর হয়। কিন্তু এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে কি? জবাইয়ের পদ্ধতি মাংসের পুষ্টিগুণকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেয়, এমন প্রমাণ কথাও পাওয়া যায়নি। হালাল পদ্ধতিতে রক্ত বের করা হলেও মাংস থেকে ক কিন্তু সম্পূর্ণ রক্ত বের হয়ে যায় না।
স্বাদ, গন্ধ ও সতেজতায় কি কোনও পার্থক্য রয়েছে?
অনেকে হালাল মাংসের স্বাদ বেশি ভালো বলে মনে করেন, আবার কারও ঝটকা মাংসই বেশি পছন্দ। তবে স্বাদের এই অদ্ভুত পার্থক্য অনেকটাই মানুষের অভ্যাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে যুক্ত। মাংসের গন্ধও কিন্তু শুধু জবাইয়ের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না। একইভাবে, হালাল পদ্ধতিতে রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার কারণে মাংস বেশি সতেজ থাকে, এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। অর্থাৎ স্বাস্থ্য, স্বাদ বা সংরক্ষণ, কোনও ক্ষেত্রেই হালালকে শ্রেষ্ঠ বলার মতন কোনও কারণ নেই।
আরও পড়ুন: মাত্র ২৫২ টাকায় কেনা ভারতীয় ইলিশ পদ্মার বলে ১,৮০০ টাকায় বিকোচ্ছে বাংলাদেশে
হালাল নিয়ে বিতর্ক শুধু খাবারের ধরনেই সীমাবদ্ধ এমনটা কিন্তু নয়। ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী হালাল মাংস প্রস্তুত করতে গেলে, একজন মুসলিম ব্যক্তিকেই সেই পশুর জবাই করতে হবে। হালাল সার্টিফিকেশন, তদারকি ও নির্দিষ্ট চিহ্ন ব্যবহারের নতুন মতন ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়ায় কাজের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাণীকল্যাণের দিক থেকে আবার দ্রুত মৃত্যু ঘটানো ঝটকা পদ্ধতি সেই প্রাণীটির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম কষ্টদায়ক। তাই হালাল বনাম ঝটকার বিতর্কে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি আচরণ, খাদ্যসংক্রান্ত সচেতনতা এবং কর্মসংস্থান এই প্রত্যেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।










