সহেলি মিত্র, কলকাতা: ঝাড়গ্রাম (Jhargram)… এমন এক জেলা যাকে নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়। বাংলার এমন একটি জেলা যেখানে এখনো অবধি তেমন ভালো উন্নত পরিষেবা নেই। আর্থিকভাবে অন্যান্য জেলার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। নেই কোনও ভালো কর্মসংস্থান। চাষবাস কম, নেই কোনও শিল্প কারখানা। জেলারঅধিকাংশ আদিবাসী ও জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষ শালপাতা সংগ্ৰহ ও দিনমজুরের কাজ করে পেট চালান। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অনেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। তবে আর চিন্তা নেই, কারণ রাজ্য সরকারের তরফে এই জেলা সহ আরও নানা জায়গাকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মান ধন যোজনা’। ঝাড়গ্রামবাসীর জীবন বদলে দিতে পারে এই যোজনা বলে খবর। কীভাবে? চলুন জেনে নেবেন।
ঝাড়গ্রামে শুরু হবে ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মান ধন যোজনা’!
রাজ্যে প্রথমবার চালু হতে চলেছে ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মান ধন যোজনা’। প্রকল্পের আওতায় ঝাড়গ্রাম জেলার পরিযায়ী শ্রমিক, খেতমজুর, শালপাতা সংগ্ৰহকারীদের যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে খবর। এই স্কিমের আওতায় সকলের পেনশনের সুবিধা পাবেন। শিবিরে নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন করা যাবে। অনেকেই হয়তো জানেন না যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মানধন যোজনা চালু হয়েছে।
মিলবে মোটা অঙ্কের পেনশন
সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে শালপাতা ও কাঠ সংগ্রহকারী, দিনমজুর, খেতমজুর, গৃহপরিচারিকা-সহ মাসিক ১৫,০০০-এর কম আয়ের ১৮–৪০ বছর বয়সি শ্রমিকরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। মাসে ৫৫ থেকে ২০০ টাকা জমা দিলে কেন্দ্র সরকার সমপরিমাণ অর্থ পেনশন অ্যাকাউন্টে জমা করবে এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে মাসে ন্যূনতম ৩,০০০ পেনশন মিলবে।
আরও পড়ুনঃ ৫ বছরে ৫ লক্ষ আয়! পোস্ট অফিসের এই স্কিমে মিলছে মোটা সুদ
জেলার বিভিন্ন ব্লকে জনকল্যাণ শিবির শুরু হলেও প্রকল্প সম্পর্কে প্রচারের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক, আদিবাসী ও জঙ্গলের ওপর নির্ভরশীল মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছায়নি। অনেকেই শিবিরের স্থান বা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না। যদিও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বা অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। জেলা শ্রমদপ্তর জানিয়েছে, প্রচার বাড়িয়ে জেলার সকল অসংগঠিত শ্রমিককে এই প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।










