আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রত্যেকটি মানুষই নিরাপদ জায়গায় টাকা রেখে ভবিষ্যতের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করতে চান। সেই জন্যই এই শেয়ার মার্কেটের যুগেও পোস্ট অফিসের বিভিন্ন স্মল সেভিংস স্কিমে মানুষকে টাকা বিনিয়োগ করতে দেখা যায়। এই তালিকাতেই রয়েছে পোস্ট অফিসের (India Post) কিষাণ বিকাশ পত্র বা KVP। এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হল, এতে কেবল একবার টাকা জমা করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগের অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যায়। বর্তমানে KVP-তে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে।
৫ লাখ টাকা কীভাবে হবে ১০ লাখ?
KVP-তে মাত্র ১০০০ টাকা দিয়েও যে কেউ বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। এই প্রকল্পে সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করা হয়। বর্তমানে এর ম্যাচিউরিটি পিরিয়ড ১১৫ মাস, অর্থাৎ ৯ বছর ৭ মাস। তাই কেউ যদি এককালীন ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে মেয়াদ শেষে সেই টাকা বেড়ে ১০ লাখ হবে। এই স্কিমে ৭.৫ শতাংশ সুদের হিসাবে প্রথম বছরে ৫ লাখ টাকার উপর প্রায় ৩৭,৫০০ টাকা সুদ যোগ হবে। পরবর্তী সময়ে মূল টাকার সঙ্গে জমা হওয়া সুদের উপরও নিয়ম অনুযায়ী সুদ যুক্ত হতে থাকবে।
এখানে বিনিয়োগকারীরা চাইলে নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, আবার যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধাও রয়েছে। আরও একটি আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ১০ বছরের বেশি বয়সি শিশুর নামেও KVP অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। পোস্ট অফিসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমেও এই প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগকারী তার একাউন্ট বেছে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন: ফের ডিম খেয়ে নিজেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীর সাথে তুলনা মহুয়ার, নিশানায় সুপ্রিম কোর্টও
তবে KVP-তে টাকা রাখার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। বিনিয়োগের পর সঙ্গে সঙ্গে সেই অর্থ তুলে নেওয়ার কিন্তু কোনও সুযোগ নেই। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগের তারিখ থেকে ৩০ মাস অর্থাৎ আড়াই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও টাকা তোলা যায় না। তাই এই প্রকল্পে টাকা রাখার আগে কতদিন অর্থটি বিনিয়োগ করে রাখা সম্ভব, তা ভালোভাবে ভেবেচিন্তে তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।










