আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গা পুজোর জন্য সরকারি অনুদান নিয়েছে এমন কমিটিগুলিকে মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখতেই হবে। বীরভূমের (Birbhum) বিজেপি জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর ব্যানার্জির (Uday Sankar Banerjee) এমন মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সত্যিই কি সরকারি অনুদানের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখার কোনও শর্ত রয়েছে? নাকি এটি শুধুই নেতার ব্যক্তিগত বক্তব্য? এ নিয়ে স্পষ্টিকরণ দিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
“আমাদের সরকার এমন কিছু বলেননি”
উদয়শঙ্করের মন্তব্যের প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের সরকার এমন কিছু বলেননি।” তিনি আরও বলেন, সরকারি অনুদান গ্রহণ করলে পুজোমণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাতেই হবে, এমন কোনও নির্দেশিকা সরকারের তরফে জারি করা হয়েছে কি না, সেটাই আগে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, অনুদান দেওয়ার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি প্রদর্শনের কোনও বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেননি। বরং সরকারি নির্দেশিকা থাকলে তা দেখানোর প্রশ্নই তুলেছেন দিলীপ।
চলতি বছরে রাজ্যে দুর্গাপুজোর জন্য সরকারি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। গত ৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি কমিটিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদানের কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার জন্য আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ছাড় এবং দমকলের ছাড়পত্র সংক্রান্ত ফি মকুবের কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে এ বছর কিছু প্রশাসনিক নিয়মও সামনে এসেছে। পুজো কমিটির নিজস্ব প্যান কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে সরকারি অনুদান নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা রয়েছে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসংঘে ভারত বিরোধী বক্তৃতা তুরস্কের প্রেসিডেন্টের, বৈঠক ছাড়ল ইজরায়েলের প্রতিনিধিরা
দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও জানিয়েছেন, সরকারি অনুদান নেওয়া পুজো কমিটিগুলিকে মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখতেই হবে, এমন কোনও সরকারি নির্দেশ তাঁর জানা নেই। ফলে উদয়শঙ্করের বক্তব্যের সঙ্গে দলের অন্য নেতাদের বক্তব্যের পার্থক্য নিয়েই এখন চর্চা চলছে।










