প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কিছুদিন আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল। শোনা গিয়েছিল এক পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩০০০ হাজার টাকা। যদিও সেই নিয়ে তদন্ত হয়েছিল। এমতাবস্থায় আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটলো পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman)। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার (Widow Pension Scheme) টাকা দেখতে গিয়ে চোখ রীতিমত ছানাবড়া হল এক দরিদ্র পরিচারিকার! কারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ দেখা গেল প্রায় ৩২ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামের বাসিন্দা হলেন ঝুমা দাস। তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে তাই সংসার চালাতে তিনি বাধ্য হয়ে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিধবা ভাতা পেয়ে থাকেন তিনি। আর ওই দিয়েই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে ক্ষমতার রদবদল হতেই গত তিন মাস ধরে বিধবা ভাতার টাকা আটকে রয়েছে ঝুমা দেবীর। তাই বাধ্য হয়েই গতকাল, সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাঙ্কের শাখায় পাসবই আপডেট করাতে যান তিনি। আর সেখানে আপডেটেড অর্থ দেখে চক্ষু চড়কগাছ তাঁর।
লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন থানায়
ঝুমা দেবী জানান, “পাসবই হাতে পেয়ে দেখি গত ৪ জুলাই তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতা বাবদ ১ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এর পর আরও একটি জায়গায় ৩১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৯৭ টাকা জমা পড়েছে। মোট ৩৩ কোটিরও বেশি বিপুল অঙ্কের এই অতিকায় আর্থিক লেনদেনের হিসেব কিছুতেই আমার মাথায় আসছিল না।” এরপরই বাড়ি ফিরে তিনি এই বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান এবং মঙ্গলকোট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে এলাকায় এই নিয়ে চরম শোরগোল শুরু হয়ে যায়।
ব্যাঙ্কের টেকনিক্যাল ত্রুটি
প্রতিবেশীদের পরামর্শে এর পর দুপুরে বোনপোকে সঙ্গে নিয়ে ফের ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন ঝুমা দেবী। আর সেখানেই এই রহস্যের সমাধান মেলে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানান যে, এটি একটি প্রযুক্তিগত বা কম্পিউটারজনিত ত্রুটির ফল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পাসবই পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। তবে ঝুমার অভিযোগ, নতুন পাসবইয়ে ১ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত কোনও লেনদেনের তথ্যই ছিল না। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝুমার বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন কৌতূহলী মানুষ। যদিও এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সাড়ে চার বছর পর মিলল সুখবর, জব কার্ডধারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকল টাকা
আচমকা এত টাকা ব্যাঙ্কে দেখানো নিয়ে ঝুমার ভাই গৌতম দাস প্রশ্ন করেন যে, “বিধবা ভাতার জায়গায় ১ কোটি টাকা দেখানো হল কী ভাবে? সত্যিই এটি শুধুই প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।” এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় কোনও গলদ ছিল কি না এবং কী ভাবে এমন বিপুল অঙ্কের টাকা পাসবইয়ে দেখা গেল, সেটা নিয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।










