সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হতো রাজ্যে। লক্ষ লক্ষ চাকরি শুধুমাত্র চুক্তির ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছিল মমতার সরকারের তরফে। শিক্ষকদের পাশাপাশি ভিলেজ পুলিশ, সিভিক ভলেন্টিয়ারসহ (Civic Volunteer) রয়েছে বিভিন্ন পদ। তাদের আইনি পথে নিয়োগ করা হয়েছিল কিনা তা এবার খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গত ১৫ বছর ধরে নিয়োগ হওয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলেই খবর। তাহলে কি কোপ পড়বে রাজ্যের সিভিক ভলেন্টিয়ারদের চাকরির উপর? কীভাবেই বা হবে এই যাচাই প্রক্রিয়া?
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ খতিয়ে দেখছে শুভেন্দুর সরকার
রাজ্যে সরকার গঠনের পরপর বিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বচ্ছতার মাধ্যমেই হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। অযোগ্য একজনও পাবে না সরকারি চাকরি। তৃণমূলের আমলে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতেন নেতারা। প্রতি মন্ত্রীর পিছনে থাকত দুই-তিনজন সহকারী। এমনই অভিযোগ বিজেপির। এমনকি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, “যাঁরা আমার সঙ্গে বছরের পর বছর দেওয়াল লিখন করল, মিছিলে হাঁটল, যাঁরা দিদির ছবি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলল ব্রাত্য বসুকে ভোট দিন—চাকরি তো আমি তাঁদেরই দেব।” তাঁর সেই বক্তব্যের পর জল গড়িয়েছিল অনেক দূর।
এদিকে তৃণমূলের দুর্নীতির জেরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ২২ হাজার ২৪০ জন শিক্ষক এবং ৩ হাজার ৫১২ জন অশিক্ষক কর্মচারী। এমনকি শিক্ষকদের মধ্যে ১ হাজার ৮১৪ জন ‘অযোগ্য’ বলেও চিহ্নিত। চলতি বছর গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি অশিক্ষক পদে নিয়োগ হলেও তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে চাকরি ফিরে পাননি প্রায় ১ হাজার জন। এবার সেই অনিয়ম এবং দুর্নীতি খতিয়ে দেখতেই বদ্ধপরিকর বিজেপি সরকার। বিশেষ করে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের উপরেই এবার চলবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।
আরও পড়ুন: কালীঘাট কাণ্ডে গ্রেফতার দুই, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হল FIR
বেশ কিছু তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মমতার সরকারের আমলে ২০১৩ সালেই ১ লক্ষ ৩০ হাজার সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের আদতে কী কাজ তা নিয়ে মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁদের দিয়ে নিজেদের এলাকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ রাখতেন তৃণমূল নেতারা। এমনকি পুলিশের থেকেও তাঁদের প্রভাব বেশি ছিল। সেই কারণেই এবার তাঁদের যোগ্যতা ঝাড়াই-বাছাইয়ের নির্দেশ রাজ্যের মুখ্যসচিবের। এ বিষয়ে এক বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, “যোগ্যতা ছাড়া কেবলমাত্র বাজার করে দেওয়ার বিনিময়ে বা নিলামের মতো করে চাকরি বিক্রি হয়েছে কিনা তা সরকারের জানা দরকার।” যদিও কীভাবে এই ঝাড়াই-বাছাই হবে তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।










