পড়ুয়াদের ইউনিফর্মের রং ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট স্কুলই, সংগ্রহ করা হচ্ছে তথ্য

Published:

School Uniform

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই স্কুল ইউনিফর্মের (School Uniform) রং সেই নীল-সাদা। ২০২২ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই রং। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ইউনিফর্মের রং ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট স্কুলই। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই শুরু হল তোড়জোড়। পোশাকের রং এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এবার নীল-সাদার পরিবর্তে প্রতিটি স্কুল তাদের নিজেদের পছন্দ মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাকের রং ঠিক করতে পারবে বলেই খবর।

পোশাকের রং ঠিক করতে পারবে সংশ্লিষ্ট স্কুল

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক নীল-সাদা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল তৃণমূল সরকার। যদিও তখন তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে ২০২২ সাল থেকে ওই নীল-সাদা পোশাক স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। শুধু তাই নয়, পোশাকের উপর বিশ্ব বাংলা লোগো সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন শিক্ষা মহল। সেই সময় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্কুলের ভাবাবেগ আহত হয়েছিল বলেই দাবি ওঠে। হাতেগোনা কয়েকটি স্কুল নিজেদের মতো ইউনিফর্ম চালু রেখেছিল। তবে সেই নিয়মেই বদল আনছে শুভেন্দুর সরকার।

আসলে নতুন সরকার গঠন হতেই স্কুল পড়ুয়াদের পোশাক বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির উপরেই দেওয়ার দাবি ওঠে। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তিনি জানিয়ে দেন, স্কুলের ইউনিফর্মের রং ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট স্কুল। এ বিষয়ে জেলা পরিদর্শক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে স্কুলের কাছে একটি পিডিএফ ফাইল পাঠানো হয়েছে। আর সেখানে উল্লেখ করা রয়েছে, কীভাবে শিক্ষা পোর্টালে গিয়ে সমস্ত তথ্য স্কুলের তরফ থেকে দিতে হবে। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি পোশাকের রংয়ের বিকল্প দেওয়ার জায়গা রয়েছে।

আরও পড়ুন: অজান্তেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ব্যাংকের ঋণ! বিপাকে পূর্ব বর্ধমানের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা

এক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথায়, “ইউনিফর্মের রং বাছাইয়ের দায়িত্ব স্কুলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। কিন্তু যে পদ্ধতিতে পোশাক দেওয়া হয়, তার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে জেলা শিক্ষা বিভাগের সার্কেল অফিসের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তরফ থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাকের মাপ নেওয়া হয়। তারপর পোশাক তৈরি করে স্কুলে সরবরাহ করা হয়। সেক্ষেত্রে পোশাকের কাপড়ের মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। তাই পোশাকের অর্থ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হাতে ছেড়ে দিলে নিজেদের মতো করে ভালো মানের কাপড় কিনে তৈরি করা সম্ভব হবে।”

google button