প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলার মসনদে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে SSC দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা (SSC Recruitment Scam Case)। আগেই অযোগ্যদের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কিন্তু পূর্বতন সরকার সেই নির্দেশ যথাযথ পালন করেনি। তাই এবার সেই নির্দেশ পালন করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। আর তাতেই শিরে সংক্রান্তি দেখছেন অযোগ্যরা।
টাকা ফেরতের নির্দেশে উদ্বিগ্ন অযোগ্যরা
সম্প্রতি শিক্ষা দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে ২০১৬ সালের SSC পরীক্ষায় দাগী বলে চিহ্নিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সুদ সমেত বেতনের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার শাসকরা, জেলা স্কুল পরিদর্শকদের পাঠিয়ে দিয়েছেন। জেলা স্কুল পরিদর্শকরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের গ্রুপেও জানিয়েছেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে আইনি জট এড়াতে এবং আদালতের কোপ থেকে বাঁচতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিকাশ ভবন। কিন্তু তাতেই এবার ভয়ংকর বিপদ ঘনিয়ে এল দাগী শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের।
কী বলছেন গ্রুপ ডি কর্মী দিব্যেন্দু বাবু?
২০১৬-র প্যানেলে ২০১৮ তে শিলিগুড়ির নেতাজি হাই স্কুলে গ্রুপ ডি-তে যোগ দিয়েছিলেন দিব্যেন্দু চাকি। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা দেখা দেওয়ায় তৎকালীন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি হারান গ্রুপ ডি কর্মী দিব্যেন্দু বাবু। দাগী তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর। তাই গত বছর এপ্রিল থেকে সে আর স্কুলে যাননি। কিন্তু এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দাগি প্রার্থীদের সুদ সমেত বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ আসতেই মাথায় হাত পড়ল তাঁর। দিব্যেন্দু বলেন, “দাগি তালিকায় নাম থাকলেও আমি সাদা খাতা জমা দেইনি। আমার OMR আমার কাছেই আছে। কেন আমি টেইন্টেড তাও জানি না।”
আরও পড়ুন: হেলমেট ছাড়া বাইক চালালেই মোটা টাকা চালান, শাস্তি! কড়া নিয়ম রাজ্য সরকারের
দাগী প্রার্থীদের সুদ সমেত বেতন ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গে দিব্যেন্দু চাকি বলেন, “ আমার পাশে আর কেউ নেই। অনেক কষ্টে একটা ছোট চাকরী পেয়েছি বেসরকারী সংস্থায়। তা করেই সংসার চালাচ্ছি। আমার নাম যখন আছে আমাকে জেলে নিয়ে যান৷ জেলের ভাত খাব। কিন্তু টাকা ফেরাতে বলবেন না। কীভাবে ফেরাব টাকা? সরকার দুর্নীতি করেছিল। কী হল? সবশেষে শুধু এক মন্ত্রী জেল খাটলেন, বাকি কেউ শাস্তি পেল না।” এই অবস্থা শুধু দিব্যেন্দু বাবুর নয়, একই অভিযোগ তুলছেন বাকি দাগী শিক্ষা কর্মী এবং শিক্ষক শিক্ষিকারা। এখন দেখার এই বিষয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।










