মিলল না স্বস্তি, তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্ধকার সময় কিছুতেই কাটছে না তৃণমূলের, হাইকোর্টের পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় (TMC Account Freeze Case) মুখ ফেরালো সুপ্রিম কোর্টও (Supreme Court)। জানা গিয়েছে, দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। আজ, সোমবার সেই মামলার শুনানি বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে শুরু হলে কোনো সুরাহা মিলল না। বলা হয়েছে আগামী ১১ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে ইডি এবং কালীঘাট তৃণমূল— দু’পক্ষের বক্তব্যই শুনবে শীর্ষ আদালত।

আপাতত সুরাহা মিলল না কালীঘাট তৃণমূলের

এ দিন তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি আদালতকে জানান, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার কারণে কর্মীদের মাইনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপর আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “২১৫ জন কর্মীর বেতন বকেয়া রয়েছে।” এরপরই প্রতিদিনের খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকের নজরে থাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে ইডির কাছে জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। পাল্টা ইডির তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অভিযোগ করেন, “সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। প্রত্যেকদিন টাকার লেনদেনও হচ্ছে। তৃণমূলের কাছে অন্তত ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে।”

পরবর্তী শুনানি কবে?

দুই পক্ষের মন্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁরা মূল মামলার মেরিট খতিয়ে দেখছেন না। অন্তর্বর্তী স্বস্তির যে আবেদন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবং এও জানানো হয় যে ইডি এবং তৃণমূলের বক্তব্য আগামী ১১ আগস্ট অর্থাৎ মঙ্গলবার শুনবেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের মোট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল ইডি। এদিকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করার জন্য হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। যদিও বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, আপাতত ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।

আরও পড়ুন: ভুল SMS আসায় মিস বন্দে ভারত, যাত্রীদের টিকিটের পুরো টাকা ফেরত দিল রেল

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশও। সেই নিয়ে আলাদা করে হাই কোর্টে মামলা করেছিল কালীঘাটের তৃণমূল। তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া সেই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল কালীঘাট শিবিরকে। এবং এই কাজের জন্য একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছিল আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবেন। মমতাপন্থী তৃণমূল চাইলে এই অ্যাকাউন্টের টাকা আইনি খরচের জন্যও ব্যবহার করতে পারবে বলে জানিয়েছিল আদালত। এখন দেখার সুপ্রিম কোর্ট কী পদক্ষেপ নেয়।