আর মিলবে না ট্যাব কেনার ১০,০০০ টাকা, ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বন্ধের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Taruner Swapna

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: করোনা মহামারীর পর অনলাইন ক্লাসের চাহিদার জেরে বিগত সরকার চালু করেছিল তরুণের স্বপ্ন (Taruner Swapna) প্রকল্প, যেখানে একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হত। তবে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আর সেই সূত্রেই এবার বন্ধ হল তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প (Taruner Swapna Scheme)। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা সামনে আসতেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষানুরাগীরা।

রাজ্যে বন্ধ হল তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু হওয়া তরুণের স্বপ্ন নামের এই প্রকল্প নতুন সরকারের জমানায় আর কার্যকর থাকবে না। তবে সরাসরি টাকা দেওয়ার বদলে স্কুলগুলির সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেই এই টাকা বরাদ্দ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  তাঁর কথায়, “সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার আর পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে কোনও কমতি রাখবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ফোন কেনার জন্য আর অর্থ সহায়তা করা হবে না রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আরও বেশি টাকা খরচ করে পড়ুয়াদের আধুনিক পরিকাঠামো দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু মোবাইল ফোন দেব না। শ্রেণীকক্ষে কম্পিউটার ল্যাব, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং উন্নত শিক্ষা উপকরণের পিছনে এবার সরকার জোর দেবে। এতে রাজ্যের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী সুফল পাবে।” এমনকি মোবাইল ফোন বন্ধ নিয়ে গুজরাটের ইস্যু টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “গুজরাটে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন আনার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা শৃঙ্খলা ও পড়াশোনার পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।”

আরও পড়ুন: “হ্যাঁ, আমি টাকা নিয়েছি” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এর পাশাপাশি শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের উন্মাদনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, “মোবাইল আসক্তি পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশের উপর গুরুতর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। কারণ, বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ার পরও গভীর রাত পর্যন্ত ছেলেমেয়েরা মোবাইল ব্যবহার করছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য আর মেধার ক্ষতি করছে। এই ধরনের অনুদান বন্ধ বা স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। এতে ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়লেও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।”