সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পুজোর আগেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। এবার বন দপ্তরের দৈনিক মজুরিভিত্তিক বা ডিএল কর্মীদের বকেয়া তিন মাসের বেতন দেওয়ার ঘোষণা করল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই রবিবার সমস্ত ফরেস্ট ডিভিশনে বকেয়া বেতনের টাকা ছাড়া শুরু হয়েছে বলে খবর। পুজোর আগে সরকারের তরফ থেকে এই উপহার যে কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পুজোর আগেই বকেয়া বেতন মেটানোর ঘোষণা সরকারের
রবিবার বন দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানোর জন্য ওয়েজ হেড ফান্ডে টাকা দেওয়া হয়েছে। এতদিন ফান্ডে টাকা না থাকার জেরে এই সমস্ত কর্মীদের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে রবিবার বিকালে ফান্ডের ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ দপ্তর থেকে ছাড়া হয়েছে বলে খবর। এ বিষয়ে রাজ্যের বনমন্ত্রী জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ পাওয়ার পরপরই রাজ্যের সমস্ত ডিএল-দের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার অরণ্য ভবনে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারব।”
বলাবাহুল্য, বর্তমানে বন দপ্তরের মোট ৭০ শতাংশ কর্মী অস্থায়ী হিসেবেই কর্মরত। গোটা রাজ্যের হিসাব ধরলে সেই সংখ্যা ৬০০০। তবে আগের সরকারের আমলে মাসে ৩০ দিন কাজ করেও ১৯ দিন বেতন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি বেশ কিছু ফরেস্ট ডিভিশনে বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকটের মধ্যে পড়েন কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফরেস্ট ডিভিশনের কর্মীরা একজোট হয়ে ‘কলকাতা চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন শনিবার।
আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন ভারতীয় রুপির, দেখুন আজকের রেট
তাঁদের দাবি ছিল, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা প্রতিনিয়ত হাতি, গন্ডার, লেপার্ড, কুকুর, হনুমান ইত্যাদি তাড়ানোর কাজ করেন। প্রায় দুই দশক ধরে কর্মরত থাকার পরেও বন দপ্তর তাঁদের স্থায়ীকরণের কথা ভাবছে না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া রাখা হচ্ছে এবং মাসিক বেতন নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ডেপুটেশন দেওয়ার পরিকল্পনাও জানিয়েছিলেন তাঁরা। তবে তার আগেই রবিবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বকেয়া বেতন দ্রুত মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি টাকা ছাড়ার কাজও শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানানো শুরু করেছে কর্মীমহল।










