প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে না আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যে কোনো ধরনের অশান্তি, গুন্ডামি এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। আর এই জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি সমস্ত সরকারি আধিকারিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আর এবার সেই তোলাবাজির ঘটনা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু সরকার (Government Of West Bengal)।
পুলিশের তোলাবাজি বন্ধে কড়াকড়ি প্রশাসন
ট্র্যাফিক পুলিশের টাকা তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে রাজ্যজুড়ে নজরদারির নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী। আর এই নজরদারির জন্য বড় কন্ট্রোল রুম তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কোথাও পুলিশ টাকা চাইলে, সেই অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ ফোন নম্বরও ঘোষণা করা হবে। এমনকি ট্র্যাফিক পুলিশের টাকা তোলার পাশাপাশি চালান ছাড়া কয়লা, বালি, পাথর, পশু পরিবহণ বন্ধ করতেও উদ্যোগী হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই ঘোষণা করতে না করতেই তোলাবাজির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। আর সেই তথ্যই এবার প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তোলাবাজি নিয়ে বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের
আজ, শুক্রবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানান যে, একটি পণ্যবাহী ট্রাক সার্ভিসিংয়ের পর নিতে যাওয়ার পথে পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কিছু সরকারী আধিকারিকরা অন্যায়ভাবে আটকান। সেই সময় গতিতে ছিলেন মালিক দীপক সিং এবং চালক শিব যাদব। আধিকারিকরা তাঁদের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তাঁরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে নেয় এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক বাতিল করা একটি কর বাবদ ২২ হাজার টাকা দাবি করে। আর এই অভিযোগ মিলতেই বড় পদক্ষেপ নেয় পরিবহন দপ্তর। রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত ইন্সপেক্টর শ্রী নাজিমুল হক এবং শ্রী অনুপম ব্যানার্জিকে অবিলম্বে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন যে, “ ইতিমধ্যেই গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগগুলি দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এবং শীঘ্রই যাতে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা যানবাহনগুলি ছেড়ে দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এবং প্রশাসনের সর্বস্তরের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তা যদি দুর্নীতি, হয়রানি বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের সাথে জড়িত থাকেন, তবে তাঁকে কঠোরতম বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ আমরা একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”










