প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জীবিত অবস্থায় শেষবারের মত মাকে একটিবার চোখের দেখা পায়নি বলে মায়ের মৃতদেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বাংলাদেশের (Bangladesh) হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das)। এবার সেই প্রসঙ্গ তুলে আবেগঘন মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার, কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে গোটা বিশ্বের সনাতনীদের নিয়ে করলেন এক আবেগঘন মন্তব্য।
কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস
অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানি ধর। ছেলের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছেপ্রকাশও করেছিলেন তিনি। তবে মা অসুস্থ থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ছেলের জেলমুক্তির অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। শেষে মায়ের শেষকৃত্যের জন্য মাত্র পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ জহিদুল ইসলাম মিঞা বৃহস্পতিবার দুপুরে ২টো ৩০ মিনিট নাগাদ চিন্ময় কৃষ ব্রহ্মচারীর প্যারোলের নির্দেশ দেন। এদিকে মায়ের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন চিন্ময়কৃ্ষ্ণ।
কেষ্টপুরে গণেশ পুজো উদ্বোধনে শুভেন্দু
মারা যাওয়ার আগে ছেলের মুখটি একবার দেখতে চেয়েছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণের মা সন্ধ্যারানি ধর। কিন্তু তাঁর শেষ আশা আর পূরণ হয়নি। মাকে শেষবারের মতন বিদায়ের মুহূর্তে আবেগে রীতিমত ভেঙে পড়েন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। সেই দৃশ্যের ছবি ভিডিও ইতিমধ্যে বেশ ভাইরাল হতে গিয়েছে। এমনকি চট্টগ্রামের পুণ্ডরিক ধাম মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ মূর্তির চরণ ছুঁয়েও অঝোরে কাদছিলেন চিন্ময়। আর সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য নিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শনিবার, রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার অন্তর্গত কেষ্টপুরে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির আয়োজিত গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই চিন্ময় প্রভুর সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দুপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে, আবহাওয়ার খবর
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “চিন্ময় প্রভুর চোখের জল পৃথিবীর সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। আমি ওই চোখের জল দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, আমরা যদি সেই দিন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের মাধ্যমে ভারতের অন্তর্ভুক্ত না হতাম, তাহলে আজ আমাদের অবস্থাও হয়ত চিন্ময় প্রভুর মতোই হত।” এর পরেই নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন উদ্বোধনী মঞ্চে আরও জানান যে, “আমার নিজের জীবনে যন্ত্রণা রয়েছে। কেবলমাত্র হিন্দু পরিচয়ের জন্য আমার মাতৃদেবকেও তাঁর পিতৃদেবের হাত ধরে ওপার বাংলা থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছে।”
“The tears of Chinmoy Prabhu have shaken the hearts of Sanatanis across the world,had Dr. Syama Prasad Mukherjee and Swami Pranavananda not stood firm for Bharat and Hindu society, our fate could have been very different.” – CM Suvendu Adhikari pic.twitter.com/roDc0cMfX1
— Sagnik Banerjee (@ItsSagnikHere) September 12, 2026
পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের স্থায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানে বিগত ৪৯ বছরের মধ্যে ৩৪ বছর ধর্মকে আফিম যারা বলেছে, তারা রাজত্ব করেছে। ১৫ বছর গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। এবার সেইসব কিছুর পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রায় ৫০ বছর পর এমন একটি সরকার তৈরি হয়েছে, যারা বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায় নীতিতে বিশ্বাস করে। এই সরকার বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড তৈরির জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।”










