সাধু-সন্তদের অপমান করলেই জেল, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Netaji In-Door Stadium (1)

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভায় ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাঁর দাবি, শ্রীরামপুরের সভায় প্রায় ১৫০ জনের উপস্থিতিতে ‘আজাদি’র স্লোগান তোলা হয়েছে। এমন রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষই জবাব দেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাধু-সন্তদের সম্মান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

বাঙ্গুর জাগরণ মঞ্চ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং সনাতন সংস্কৃতি সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, বাম ও মমতা জমানার মতো সাধু-সন্তদের অপমান আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রশাসন ‘টিকা, শিখা, ধুতি ও তুলসীর সুরক্ষাকারী সরকার’। লিলুয়ায় বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যাঁরা সাধু, সন্ত ও মহারাজদের অপমান করবেন, বর্তমান সরকার তাঁদের সোজা জেলে পুরবে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযুক্তকে ঘটনার দিন রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।” ওই ঘটনায় ছবি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও সাম্প্রতিক রিপোর্টে এসেছে।

ব্রিগেডে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ

এদিন মঞ্চ থেকেই আগামী কর্মসূচির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ ডিসেম্বর ব্রিগেডে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আরএসএস-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি জগৎগুরু স্বামী রামভদ্রাচার্যের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “মহারাজজি আমায় আশীর্বাদ করে জানিয়েছেন যে, তিনি আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করবেন এবং ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি ব্রিগেডে ১০০০ কুণ্ডের এক অভূতপূর্ব ধর্মসভার নেতৃত্ব দেবেন।”

আরও পড়ুন: ১০ অক্টোবরের মধ্যেই হবে রাস্তা সংস্কার, বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু অগ্নিমিত্রা পালের

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গীতাপাঠ, হনুমান চালিসা পাঠ, শাঁখ-মৃদঙ্গ-খঞ্জরি বাজানো এবং হরেকৃষ্ণ নামকীর্তনের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখন আর কোনও ভয় নেই। প্রাণ খুলে গীতা পাঠ ও বিতরণ করুন, হনুমান চালিসা পাঠ করুন, শাঁখ-মৃদঙ্গ-খঞ্জরি বাজান এবং হরেকৃষ্ণ নাম কীর্তন করুন। দিনকাল বদলে গিয়েছে, গোরক্ষা ও ধর্মরক্ষায় সরকার প্রস্তুত।”

google button