শ্রাবণী মেলায় পুণ্যার্থীদের জন্য কুলার, বেড, উন্নত চিকিৎসা! বিরাট আয়োজন সরকারের

Published:

Tarakeswar

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রতি বছর শ্রাবণী মেলায় কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমন হয় তারকেশ্বরে (Tarakeswar)। কিন্তু এবার রাজ্যে পালা বদলের পর প্রথম শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় মেলা হিসাবে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ১৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শ্রাবণী মেলা। যা চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময় যাতে জলযাত্রী এবং পুণ্যার্থীদের কোনো শারীরিক অসুবিধার মধ্যে পড়তে না হয়, তার জন্য সেবা শিবির গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

১৬টি সহায়তা কেন্দ্রে থাকবে চিকিৎসা ব্যবস্থা

গতকাল, সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে তারকেশ্বরের জন্য একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। এমনকি পুণ্যার্থীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তার জন্য শ্রাবণ মেলা উপলক্ষে শেওড়াফুলি-তারকেশ্বর পথে, প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর নির্দিষ্ট ব্যবধান অন্তর সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর পর্যন্ত রাস্তার দু’দিকে চারটি বড়ো সেবা শিবিরও গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৬টি সহায়তা কেন্দ্রে থাকবে চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ সব রকম সুযোগ-সুবিধা। তাই জোর কদমে চলছে সেবা কেন্দ্র নির্মাণের শেষ প্রস্তুতি।

ঝা চকচকে ব্যবস্থা সেবা কেন্দ্রে

ভাইরাল ভিডিও সূত্রে দেখা গিয়েছে, সেবা শিবিরগুলিতে ইতিমধ্যেই অসংখ্য বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক বড় ঘরের মধ্যে যাতে সকলে নির্দ্বিধায় কোনো অসুবিধা ছাড়াই থাকতে পারে তার জন্য আলোর ব্যবস্থা, পাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত গরমের হাত থেকে বাঁচতে লাগানো হয়েছে কুলার। এছাড়াও জল- ওআরএসও থাকবে যাত্রীদের জন্য। পুরো ঝা চকচকে এই কেন্দ্র দেখলে মনে হবে যেন বাড়ি বা কোনো বড় হাসপাতাল। এছাড়াও এই বছর শ্রাবণী মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে তারকেশ্বরে পায়ে হেঁটে আগত তীর্থযাত্রীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বৃষ্টি এবং মেলার লাইটিং।

আরও পড়ুন: পুলিশে বড় রদবদল করল নবান্ন, দায়িত্ব খোয়ালেন CID প্রধান সুপ্রতিম সরকার

অন্যদিকে সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রথযাত্রা উপলক্ষে বড় ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান। বর্তমান সরকার ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে নিয়ে এগোতে চায়। ঐতিহ্যবাহী রথগুলি মেরামত-সংরক্ষণের প্রয়োজন আছে। দশকের পর দশক পুরনো রথযাত্রাগুলিকে অনুদান দেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, রথযাত্রাকে ভালভাবে পালনের জন্য এর আগে পূর্বতন সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন ধরে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়নি। তবে এই প্রথম রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে খুশি রথযাত্রা কমিটিগুলি।