এরা পাবে ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা, বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের

Published:

Calcutta High Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংরক্ষণ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় ৭৬টি জনগোষ্ঠী। সরকারি সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রেও আর মিলবে না সংরক্ষণ। তবে এবার বাদ পড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির সুবিধা এবং ওবিসি সংরক্ষণ পাবে কি না সেই প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এ ব্যাপারে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত।

ওবিসি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের বিচারপতির

এদিন বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীদের তরফ থেকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামীম জানান, আবেদন করার ক্ষেত্রে তাদের ওবিসি শংসাপত্র ছিল। তবে শেষ পর্যায়ে এসে রাজ্য সরকার ওবিসি তালিকা বাতিল করায় তারা সংরক্ষণের সুবিধা হারিয়েছেন। তবে রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, সামাজিকভাবে অনগ্রসর তালিকার আওতায় না পড়লেও তাদের কাছে আর্থিক অনগ্রসরতার সার্টিফিকেট রয়েছে। তাই তারা এই সংক্রান্ত সুবিধা পেতে পারেন।

তবে আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই আবেদনকারীরা আর্থিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে শিক্ষা দফতর এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। সেই সূত্রে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে হবে বলে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জেলেও অশ্লীল কাণ্ড! প্রজ্বল রেভান্নার ফোনে মিলল ১৪৫টির বেশি পর্ন ক্লিপ ও সিনেমা

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই তৃণমূলের নীতি বাতিল করা হয়। ৭ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য অনগ্রসর হিসেবে ৬৬টি জাতির তালিকা প্রকাশ করেছিল রাজ্য সরকার। আগে ওবিসি-এ ক্যাটাগরিতে মিলত ১০ শতাংশ সংরক্ষণ। আর ওবিসি-বি ক্যাটাগরিতে মিলত ৭ শতাংশ সংরক্ষণ। তবে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১০-র আগের সংরক্ষণ নীতি বহাল রেখেছে রাজ্য সরকার। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু জাতিরাই ন্যায্য অধিকার পাবেন। কিন্তু যাদের হাতে সার্টিফিকেট রয়েছে, তারা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেই মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। আর এবার সেই মামলায় বড় কথা শোনালেন বিচারপতি সিনহা।