লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন তৃণমূল নেতা! ফাঁস হতেই যা বললেন উত্তম সাউ

Published:

Lakshmir Bhandar

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের আমলে যে দুর্নীতি হয়েছে সে কথা জানতে বাকি নেই কারোরই। এবার নতুন করে আরও এক দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে। জানা গিয়েছে, মাসে মাসে লক্ষীর ভান্ডারের (Lakshmir Bhandar) দেড় হাজার টাকা ঢুকতো এক তৃণমূল নেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে! ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার। পূর্বের সরকারের প্রকল্প লক্ষীর ভান্ডারের সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ প্রকল্পে নাম উঠে আসে পুরুষের। তৃণমূল নেতার নাম দেখতেই দুর্নীতি নিয়ে তৎকালীন সরকারকে তুলোধোনা করল বিজেপি।

কীভাবে মহিলাদের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে নাম উঠল তৃণমূল নেতার?

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের মনোহরপুর 2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি কর্মীদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, সেখানকার স্থানীয় তৃণমূল নেতা উত্তম কুমার সাউ পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। একজন পুরুষ হয়েও কীভাবে মহিলাদের প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির কর্মী সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাসিক অর্থ পকেটে ঢুকেছে উত্তমের। এখন সব অর্থ ফেরত দিতে হবে তাঁকে।

অভিযুক্ত উত্তম সাউ অবশ্য জানিয়েছেন, স্ত্রীয়ের নামে অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর সবই। কিন্তু কীভাবে তাঁর নাম লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে চলে এলো, সেটা নিজেই জানেন না চন্দ্রকোনার স্থানীয় তৃণমূল নেতা। অভিযুক্ত আরও জানান, কিছুদিন আগেই বিষয়টি নজরে এসেছিল তাঁর। তিনি স্ত্রীয়ের জন্য লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। তবে কীভাবে তাঁর নাম এসে গেল সেটা জানেন না তৃণমূল নেতা উত্তম সাউ। তবে তিনি একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রকল্পে নাম তাঁর থাকলেও প্রতিমাসের টাকা তাঁর স্ত্রীয়ের অ্যাকাউন্টেই ঢুকতো।

অবশ্যই পড়ুন: হিন্দু ধর্মকে ‘গন্দা’ বলেছিলেন মমতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের আইনজীবীর

ওই তৃণমূল নেতার বক্তব্য, তিনি সত্যিই জানেন না কীভাবে স্ত্রীয়ের নামের জায়গায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে তাঁর নাম উঠে গেল। একই সাথে উত্তমের দাবি, হয়তো কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এমন হয়েছে। তবে তিনি আজ পর্যন্ত এই প্রকল্প থেকে নিজে এক টাকাও নেননি। এবার এই সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতে লিখিত আবেদন জানাবেন তৃণমূল নেতা। এদিকে এমন বিরল ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিংহ দোলুই জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। বিজেপির কাজ থেকে অভিযোগ পেয়েই জানতে পারেন।