বাল্যবিবাহ আটকে ফেরে পড়াশোনায়, পুরস্কার হিসেবে ‘কন্যারত্ন’ পেল সুন্দরবনের দুই ছাত্রী

Published:

Knaya Ratna

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকালই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলায় কন্যারত্ন (Kanya Ratna) প্রকল্প চালু করেছেন। স্কুলছাত্রীরা পাবে এই প্রকল্পের আওতায় যথাক্রমে বছরে ১ হাজার টাকা এবং এককালীন ২৫ হাজার টাকা। এদিকে পরিবারের চাপে পড়ে অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করা হচ্ছিল দুই স্কুল ছাত্রীকে। তবে সেই বাল্যবিবাহের প্রতিবাদ করে বিয়ে ভাঙে সুন্দরবনের ওই দুই ছাত্রী। এবার তারাই পেল রাজ্য সরকারের কন্যারত্ন প্রকল্পের সুবিধা।

কন্যারত্ন পেল সুন্দরবনের দুই স্কুল ছাত্রী

আমরা আজ যে দুই ছাত্রীকে নিয়ে কথা বলছি, তারা হল যথাক্রমে সুস্মিতা সাফুই এবং হাবিবা মোল্লা। দুই ছাত্রীকেই অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রশাসনের সহায়তায় সেই বিয়ে ভাঙতে বাধ্য করে ওই দুই ছাত্রী। এমনকি শেষ পর্যন্ত আবারও পড়াশোনায় ফিরে আসে তারা। সুস্মিতা ক্যানিংয়ের মিঠাখালীর বাসিন্দা। ক্যানিং দ্বারকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সে। মাধ্যমিক দেওয়ার আগেই পরিবার এবং প্রতিবেশীরা তাঁকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তবে সেখানেই বিরোধিতা করে ওই ছাত্রী।

বাধ্য হয়ে শেষমেষ দিগম্বরপুর অঙ্গীকার নামের এক শিশু সুরক্ষা কর্মীদের এই খবর জানায়। এরপর তারা স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং থানার সহায়তায় সুস্মিতার মাকে ডেকে পাঠায়। এমনকি বাল্যবিবাহের খারাপ দিক সম্বন্ধে তাঁকে বোঝানো হয়। এমনকি তাঁকে দিয়ে আন্ডারটেকিং ফর্মে স্বাক্ষর করানো হয়, যাতে বিয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওই ছাত্রীকে বিয়ে না দিতে পারে তাঁর পরিবার। সেখানেই বন্ধ হয় বিয়ের তোড়জোড়। বর্তমানে সে রাজ্য সরকারের কন্যারত্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে, এবং পড়াশোনায় ফিরে একাদশ শ্রেণীতে পাঠরত।

আরও পড়ুন: হাবড়ার পর দিনহাটা, এসটিএফ-র হাতে গ্রেফতার ৩ ISI এজেন্ট

এদিকে হাবিবা মোল্লা বাসন্তী ব্লকের ঢুরি জনপ্রিয়নগরের জনপ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তবে তাঁর বান্ধবী সুরাইয়া মোল্লা অষ্টম শ্রেণীতে পঠরত অবস্থাতেই তাঁর বিয়ে ঠিক করে ফেলে পরিবারের লোকজন। এমতাবস্থায় তৎক্ষণাৎ সে বাসন্তী থানায় ফোন করে এই বিয়ে আটকানোর জন্য অনুরোধ করে। এরপর এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রশাসনের তৎপরতায় ওই নাবালিকার বিয়ে ভেস্তে যায়। তবে এই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য কন্যারত্ন দিবসে পুরস্কার পায় হাবিবা। এদিন আলিপুর জেলাশাসক ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এই দুই ছাত্রীর হাতে কন্যরত্ন পুরস্কার তুলে দিয়েছেন জেলা শাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি এবং জেলা কন্যারত্ন আধিকারিক সুপর্ণা বিশ্বাস।

google button