সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনই বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ঝাড়গ্রামের (Jhargram) গুপ্তমনি এলাকা। খড়গপুর-চিচিড়া ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে নির্মীয়মান একটি ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাসের একাংশ বুধবার ভোররাতে আচমকা ভেঙে পড়েছে। হাতিদের চলাচলের জন্য তৈরি এই বিশেষ সেতুটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার কারণে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ানো গেলেও এই ঘটনায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, বুধবার ভোররাতে বিকট শব্দে গুপ্তমনি এলাকা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে দেখেন, আন্ডারপাসের একটি বড় অংশ ভেঙ্গে নিচে পড়ে গিয়েছে। আর যেহেতু দুর্ঘটনাটি ভোরের দিকে ঘটেছে এবং সেই সময় নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল, তাই কোনও শ্রমিক বা পথচারী আহত হয়নি। তবে খবর পাওয়ার পর পরে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
বলে দিই, ঝাড়গ্রামের এই অঞ্চলটি মূলত এলিফ্যান্ট করিডোর বা হাতির যাতায়াতের পথ হিসেবেই পরিচিত। এই এলাকায় হাতি এবং মানুষের সংঘাতের খবর পাওয়া যায়। কখনও জাতীয় সড়ক পার হতে গিয়ে হাতির মৃত্যু হয়। আবার কখনও কখনও হাতির হানায় প্রাণ যায় সাধারণ মানুষের। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই বন দফতরের প্রস্তাবে এনএইচএআই একটি আন্ডারপাস তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল। আর এই প্রকল্পের জন্য মোট ৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়। প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ এবং ৭ মিটার উঁচু এই সেতুটি তৈরি করা হচ্ছিল, যাতে হাতিরা নীচ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
আরও পড়ুন: দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রফতানি, নয়া ইতিহাস গড়ল ভারত
এদিকে গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। আর ব্রিজের কাজ প্রায় শেষের মুখেই ছিল। এরকম সময় ধস নামায় নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এত কোটি টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা দরকার। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মাটি বসে যাওয়ার কারণে নাকি পরিকাঠামোগত ত্রুটির ফলে এই বিপর্যয়। তবে তা খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।










