অনন্যা সরকার, মুর্শিদাবাদ: কথায় বলে, মানুষ যদি একবার কোনও কিছু অর্জনের জন্য যান প্রাণ লাগিয়ে দেয়, তাহলে এমন কোনও শক্তি নেই যা তার লক্ষ্যপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। চরম দারিদ্র নানান প্রতিকূলতা পেরিয়েও পৌঁছানো যায় সাফল্যের শিখরে। ঠিক যেমনটা করে দেখিয়েছেন এই বাংলারই মেয়ে সানা আজমী (UPSC Success Story of Sana Azmi)। মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের বেড়ে উঠেও সানা স্বপ্ন দেখেছিলেন বড় কিছু অর্জন করার। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের জোরে আজ তিনি ইউপিএসসি-র মতো কঠিন পরীক্ষায় প্রথমবারই পাস করে ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসে (IRS)-এর জন্য যোগ্য হয়েছেন। আসুন তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা সানার ইউপিএসসি-র লড়াই
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি এলাকার পাকালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সানা আজমী দশ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। একটি অতি সাধারণ কৃষক পরিবারে তাঁর বড় হয়ে ওঠা। বাবা মাইজুদ্দিন শেখ নবম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। সংসারে অভাব অনটনের জন্য তাঁকে অল্প বয়সেই চাষবাসের কাজে নেমে পড়তে হয়। কিন্তু তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, তাঁর সাত কন্যা সহ সকল সন্তানকেই সুশিক্ষিত করবেন। তার জন্য যান প্রাণ লড়িয়ে দেন।
সানা আজমী তাঁর গ্রামের স্কুল এই পড়াশোনা করেছেন। সাগরদীঘির আল-আমিন মিশন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত মেধাবী সানা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখান থেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিও শুরু করে দেন।
আরও পড়ুন: খবরের কাগজ বিক্রেতা থেকে UPSC ক্র্যাক করে IAS, অনুপ্রেরণা দেবে দর্জির ছেলের কাহিনী
আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ অঞ্চলের হাজার একটা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সানা কখনও নিজের স্বপ্নকে ত্যাগ করেননি। তিনি ২০২৫ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন এবং প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফল হন। সর্বভারতীয় স্তরে ৭৬৪ র্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করে সানা ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস সহ বিভিন্ন গ্রুপ-এ পদের জন্য যোগ্য হয়েছেন। তবে, এখানেই থেমে যায়নি সানার যাত্রা। তিনি আইএএস অফিসার হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই আবার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি শুধু ইউপিএসসি-এর মতো কঠিন পরীক্ষায় পাস করার গল্পই নয়, এটি এক কৃষক বাবার অপূর্ণ শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা, জীবন সংগ্রাম ও অটল সংকল্পের কাহিনী।










