চিহ্নিত হবে শংসাপত্রহীন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক স্কুল! কড়া নির্দেশ শিক্ষা দফতরের

Published:

Private Schools

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি সরকার আসতেই এবার নয়া পদক্ষেপ..মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শংসাপত্রহীন বেসরকারী স্কুলগুলিকে (Private Schools) এবার আতশকাঁচের তলায় রাখতে চলেছে প্রশাসন (Government Of West Bengal)। জানা গিয়েছে, পরিকাঠামোহীন বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলি যাতে যেখানে-সেখানে গজিয়ে না ওঠে এবার সেটাই দেখার নির্দেশ দেওয়া হল স্কুল শিক্ষা দফতরের (West Bengal Education Department) তরফে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে প্রতিটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলকে সরকারের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা NOC নিতে হবে।

বিশেষ নির্দেশ শিক্ষা দফতরের

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের শিক্ষা দফতর বিভিন্ন জেলার জেলা স্কুল পরিদর্শকদের চিঠি দিয়ে দফতর জানিয়েছে যে, প্রতিটা জেলায় যে সকল ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ ছাড়া মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি স্কুল চলছে, সেই স্কুলগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। এবং যাদের এই শংসাপত্র নেই, তাদের এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এখানেই শেষ নয়, কেন তাদের এই শংসাপত্র নেই, তার কারণ আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা দফতরকে জানাতে হবে। আর এই নির্দেশ নিয়ে রীতিমত ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে।

কী কী বিষয় যাচাইয়ের নির্দেশ দফতরের

উল্লেখ্য, কোনও স্কুল চালাতে গেলে প্রথমে রাজ্য সরকারের থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ এবং পরে রাজ্য সরকারের বোর্ড, CBSE অথবা CISCE বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। মূলত স্কুলের জমি, স্কুলটির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা কেমন এবং স্কুলের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রশিক্ষিত কিনা বিচার করে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই সেই নিয়ম মানছে না। শিক্ষা দফতরের কর্মীদের তরফে জানানো হয়েছে, বিগত কয়েকদিনে কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় প্রচুর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল তৈরি হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ের ক্লাসঘরে নেই। ফলে, আগুন লেগে গেলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা থাকে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন: রাতের অন্ধকারে মহুয়াকে সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ! কী হয়েছিল তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে?

এছাড়াও বিদ্যালয়ের জমির মাপ যেমন ঠিকভাবে মানা হচ্ছে না, তেমনই পড়ুয়াদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। কলকাতা বা কোনও মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে সিবিএসই অনুমোদিত স্কুল খুলতে গেলে এক একর জমি দরকার, গ্রামাঞ্চলে দরকার দুই একর জমির। সিআইএসসিই বোর্ড অনুমোদিত স্কুল খুলতে গেলে গ্রামাঞ্চলে এক একর এবং শহরাঞ্চলে ৩০ কাঠা জমির প্রয়োজন। কিন্তু এসব কিছুই মানা হচ্ছে না। তাই সেই কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ জারি করেছে শিক্ষা দফতর। এদিকে আচমকা এই নির্দেশনা নিয়ে বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’-এর জন্য সরকারের উচিত কিছুটা সময় দেওয়া।