অনন্যা সরকার, কলকাতা: দাঁতে অসহ্য ব্যথা? বা খেতে গেলে হচ্ছে অস্বস্তি? এই লক্ষণগুলি একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এই সমস্যাটি ক্যাভিটি (Tooth Cavity) বা দাঁতের ক্ষয়ের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যাকে আমরা চলতি কথায় বলে থাকি ‘দাঁতের পোকা’। দাঁতের যত্ন সম্পর্কে কমবেশি সবাই সচেতনই থাকেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন যিনি ক্যাভিটির সমস্যায় ভোগেন না। এর জন্য প্রধানত দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস দায়ী।
শুধু মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলেই দাঁতের ক্ষতি হয়, এমন নয়। দন্ত চিকিৎসকরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে মানুষ এমন অনেক খাবার খেয়ে থাকে, যা অজান্তেই দাঁতের এনামেলে প্রবেশ করে বিপদ ডেকে আনে। মুখের ব্যাকটেরিয়া এই খাবারগুলোয় থাকা শর্করাকে ব্যবহার করে এক ধরনের অ্যাসিড তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে দাঁতের শক্ত স্তর বা এনামেল ক্ষয় করে। এর ফলে দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি হয়। কীভাবে ক্যাভিটি থেকে রক্ষা করবেন দাঁতকে, আসুন জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া কিছু উপায়।
দাঁতের ক্ষয় রোধে ঘরোয়া প্রতিকার
দাঁতের যত্ন নিতে এবং গুরুতর দাঁতের সমস্যা এড়াতে এই কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ করতে পারেন।
১. লবঙ্গ চিবানো- লবঙ্গের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া-রোধী এবং ব্যথানাশক গুণ রয়েছে। এটি দাঁতের ক্ষয়জনিত ব্যথা উপশম করার জন্যও বহুল ব্যবহৃত হয়। একটি আস্ত লবঙ্গ নিয়ে দাঁতের ফাঁকে রেখে চিবিয়ে খেলে দাঁতের পোকার প্রতিরোধ করা যায়।
২. নুন-জল দিয়ে গার্গল করা- নুন ও জলের মিশ্রণ একটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, তাই এটি দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ও উপকারী। এক গ্লাস হালকা গরম জলে আধ চা চামচ নুন মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে নিয়মিত গার্গল করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: বিস্কুটে ভরেনি মন, মদের দোকানে ঢুকে ‘ভদকা’ খেয়ে ঘুম বানরের, ভাইরাল ভিডিও
৩. নারকেল তেল- দাঁতের ক্ষয় রুখতে নারকেল তেলও অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক প্রতিকার। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধে চমৎকার কাজ করে। প্রতিদিন সকালে দাঁতে নারকেল তেল লাগিয়ে তারপর ব্রাশ করতে হবে এবং ১০-১৫ মিনিট ধরে মুখ কুলকুচি করলে প্রভূত ফল মেলে।
দাঁতের ক্ষয় কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
দাঁতকে রক্ষা করা কোনো দুরূহ কাজ নয়। কয়েকটি ছোট অভ্যাস ও পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজেই দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করা যায়। সকলেরই দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। ক্যাভিটি বা ক্ষয়জনিত গর্ত প্রতিরোধের জন্য ব্রাশ করা অপরিহার্য। ব্রাশ করার পাশাপাশি ফ্লস করারও খুবই জরুরি, এর ফলে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের টুকরো বেরিয়ে যায়।
মিষ্টি এবং অ্যাসিডিক খাবার দাঁতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এগুলো ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটায় এবং দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের কারণ হয়। ক্যাভিটি পূরণের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুগ্ধজাত খাবার, যেমন – দুধ, দই, পনির এবং বাদাম ও শাকসবজির মতো খাবার দাঁতে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে।










