সহেলি মিত্র, কলকাতা: ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটতেই চাইছে না বাংলার সরকারি কর্মীদের। এখন অবধি পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় কয়েক বছরের মহার্ঘ্য ভাতার টাকা আটকে রয়েছে। সবে মাত্র প্রথম কিস্তির টাকা রিলিজ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য বাজেটে ঘোষিত হওয়া চার শতাংশ ডিএ এখনো অবধি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ কর্মীদের। এহেন অবস্থায় এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল সরকারি কর্মীদের সংগঠন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। সেইসঙ্গে দেওয়া হল ডেপুটেশন। প্রশ্ন উঠছে তবে কি ডিএনএ অচলাবস্থা কাটবে?
DA নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ সরকারি কর্মীরা
চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা করেছিল ১ এপ্রিল থেকে সরকারি কর্মীদের ৪ শতাংশ বাড়তি ডিএ দেওয়ার। এদিকে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় কেটে গেলেও সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি বাড়তি কোনো টাকা। কবে সেই বকেয়া দেওয়া হবে বা আদৌ দেওয়া হবে কিনা সেই নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সকলে। এহেন পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ডিএ সংক্রান্ত লিখিত চিঠি দেওয়া হল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে।
কাটবে অচলাবস্থা?
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ এখনও কার্যকর করা হয়নি। এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই বাড়তি ডিএ দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। এমনকি সংশোধিত বেতন বিলও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা পেনশন, কেন্দ্রের এই প্রকল্পে নাম লেখালেন ৯ কোটি মানুষ
সূত্রের খবর, চিঠিতে নাকি আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে এই দেরি হওয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা ও সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করছেন যে, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না থাকায় এই ডিএ কার্যকর করা যাচ্ছে না। শাসকদল তৃণমূলও একই বক্তব্য দিয়েছে। যদিও সরকারি কর্মীদের দাবি এই ডিএ দেওয়ার ঘোষণা বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার বহু আগে করা হয়েছিল। সেখানে আদর্শ আচরণবিধির অজুহাতে তা আটকে রাখা যুক্তিযুক্ত নয়।
সংগঠনের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ আর্জি জানিয়েছে সংগঠন। অনুরোধ করা হয়েছে যাতে এই বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে এবং রাজ্যের অর্থ দফতরকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।










