বাংলার সপ্তম বেতন কমিশনে ন্যূনতম বেসিক পে ৪৫,০০০ টাকা? বড় দাবি কর্মীদের

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: এখন বিশ বাঁও জলে রয়েছে বাংলার ডিএ মামলা (Dearness Allowance)। কবে এই মামলার নিষ্পত্তি হবে? কবে সকলের বকেয়া মেটাবে সরকার? সেই প্রশ্ন সকলের। যদিও এরই মাঝে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission)। নতুন পে কমিশনে ন্যূনতম বেতন কত হবে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে? উঠছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে বড় তথ্য ফাঁস করেছেন

সপ্তম পে কমিশনে ন্যূনতম বেসিক পে ৪৫,০০০ টাকা?

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন, ন্যূনতম বেসিক পে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বকেয়া নিয়ে জল্পনা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউনিটি ফোরামের নেতা অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্যের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খরচের ভিত্তিতে ৪৫,০০০ টাকা ন্যূনতম বেসিক পে নির্ধারণের দাবি তুলেছে কর্মচারী সংগঠনটি। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA), ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং রাজ্যের ডিএ-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: অস্থায়ী পুরকর্মীদের জন্য সুখবর, এক ধাক্কায় ৬০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি ঘোষণা মন্ত্রীর

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেসিক পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইউনিটি ফোরামের দাবি, চার সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার খরচ, বাজারদর এবং মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলি বিবেচনা করে বেতন নির্ধারণ করা উচিত। সেই প্রয়োজনের ভিত্তিতেই ন্যূনতম ৪৫,০০০ টাকা বেসিক পে-র দাবি সামনে আনা হয়েছে।

বড় দাবি কর্মীদের

এই দাবির পক্ষে সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (AICPI) এবং প্রয়োজনভিত্তিক ব্যয়ের হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ৪৫,০০০ টাকা ন্যূনতম বেসিক পে এখনও সরকারি ভাবে অনুমোদিত বেতনহার নয়। এটি কর্মচারী সংগঠনের দাবি, যার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশের উপর। সপ্তম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল এমন একটি গুণক, যার সাহায্যে পুরনো বেতন কাঠামোর বেসিক পে-কে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়। এই ফ্যাক্টর কত হবে, তার উপর কর্মচারীদের সংশোধিত বেসিক পে-র পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করবে।

ইউনিটি ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক ঘোষণা করলেই হবে না; মূল্যবৃদ্ধি, পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং কর্মচারীদের আর্থিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে। তবে সপ্তম পে কমিশনে ঠিক কত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হবে, তা এখনও নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

HRA ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করার বিরোধিতা

বাড়ি ভাড়া ভাতা বা HRA নিয়েও আপত্তি তুলেছে কর্মচারী সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, HRA ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হলে কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা কমে যেতে পারে। বিশেষত শহরাঞ্চলে বাড়িভাড়া ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় এই ভাতার হার নির্ধারণে বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে বন্ধ চার্জিং পয়েন্ট, নয়া নিয়ম রেলের

তবে HRA-র চূড়ান্ত হার কী হবে, তা সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য নিয়মের উপর নির্ভর করবে। সংগঠনের দাবি এবং সরকারি ভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে—তাই এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়েছে কি না, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করা জরুরি।

বকেয়া ডিএ ও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র বকেয়া মেটানো। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-সংক্রান্ত বরাদ্দ এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্যতার তুলনা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ইউনিটি ফোরামের বক্তব্যে কেন্দ্রের ডিএ বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ এবং রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি উঠে এসেছে। সংগঠনটির মতে, ডিএ-সংক্রান্ত আর্থিক হিসাব ও সরকারি অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকলে কর্মচারীরা বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন। এই কারণেই শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি এবং আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে।

google button