শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ১১৩ দিনের লড়াই, মাথা মুড়িয়ে আমরণ অনশনে কেরলের যোগ্য প্রার্থী

Published:

Recruitment Protest

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে আগেই। কিন্তু সসম্মানে পরীক্ষায় পাশ করার পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও এখনও নিয়োগ (Recruitment) প্রক্রিয়া শুরু করেনি সরকার। আর এই নিয়োগ বিলম্বের প্রতিবাদে এবার রাস্তায় আন্দোলনে নামলেন কেরলের (Recruitment Protest) লোয়ার প্রাইমারি শিক্ষক পদের জন্য তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা। এমনকি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মাথা মুড়িয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করলেন সংগঠনের সম্পাদিকা এস. ভালারমাথি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল সেই ভিডিও এবং ছবি।

র‍্যাঙ্ক লিস্ট বেরোলেও হয়নি নিয়োগ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছিল কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) র‍্যাঙ্ক লিস্ট। কিন্তু সেই লিস্টে যোগ্য প্রার্থীদের নাম উঠলেও এখনও তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বিগত দুটি শিক্ষাবর্ষ ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় থমকে। এদিকে যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। এর আগে প্রার্থীরা প্রতিবাদ করায় আগস্ট মাসে কেরলের শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর একটি অনশন প্রত্যাহার করা হয়েছিল কিন্তু সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় তারা পুনরায় আন্দোলনে নামেন। আর তাতেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন অল কেরালা লোয়ার প্রাইমারি স্কুল টিচার র‍্যাঙ্ক হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের সম্পাদিকা এস. ভালারমাথি।

মাথা মুড়িয়ে অনশন সংগঠনের সম্পাদিকার

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিবাদী প্রার্থীদের সামনে মাথা মুড়িয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন এস. ভালারমাথি। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ছবি এবং ভিডিও। তাঁর দাবি, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আগে বর্তমান পিএসসি র‍্যাঙ্ক তালিকায় থাকা যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। নইলে তাঁদের আন্দোলন আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। আন্দোলনকারীরা মূলত চারটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যমান পিএসসি র‍্যাঙ্ক লিস্ট থেকে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ এবং এই তালিকার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে।

আরও পড়ুন: ১৩৫ কিমি বেগে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উত্তাল দিঘা, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস

এছাড়াও আন্দোলনকারীদের দাবি স্কুলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ১:৩০ থেকে কমিয়ে ১:২৫ করতে হবে, যা নতুন নিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে। প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদগুলোকেও পিএসসির আওতায় এনে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। এবং বর্তমান তালিকার প্রার্থীদের নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা স্থগিত রাখতে হবে। যদিও আন্দোলনকারীদের এই দাবি নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রাজ্য সরকার। এখন দেখার, টানা ১১৩ দিনের আন্দোলনে সংগঠনের সম্পাদিকার অনশন কেরল সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে কি না এবং আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

google button