ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

Published:

Dearness Allowance

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পুরনো হোক বা নতুন, ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সরকারি কর্মী এবং শাসক দলের মধ্যে টানাপোড়েন যেন শেষ হওয়ার নাম নিচ্ছে না। আদৌ এই সমস্যা কবে মিটবে? উত্তর জানা নেই কারোর। গতকাল ১৬ অক্টোবর বাংলার বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি হয়নি সুপ্রিম কোর্টে। ফলে পুজোর মুখে নতুন করে মন ভেঙেছে বাংলার কয়েক লক্ষ কর্মীর। এসবের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA বকেয়া নিয়ে বড় খবর

বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু চলছে। তারই মধ্যে অনুদানভুক্ত গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant In Aid) প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ওই রিপোর্টে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্য সরকারের কত টাকা খরচ হয়েছে, তার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। তবে কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সম্পূর্ণ মেটানোর বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পাহাড়, চা বাগান আর নির্জন উপত্যকা! সিকিমের এই দুই অফবিট জায়গা মিস করবেন না

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) দিতে রাজ্য সরকার প্রায় ৮,১০৩ কোটি টাকা খরচ করেছে। এই হিসাবের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বকেয়া ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রায় ৫,০৪৪.৭৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একই সময়ে পেনশন ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ১,৮৭৩.৬৮ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দুই খাতে খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৯১৮.২০ কোটি টাকা।

কত টাকা খরচ হয়েছে সরকারের?

এছাড়াও, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ এবং ডিআর মেটাতে প্রায় ১,১৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, রাজ্য সরকারের দেওয়া হিসাবের মধ্যে সমস্ত কর্মচারীর বকেয়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের মন্ত্রী হয়েও নিজের হাতেই ঝাঁট দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার, নজর কাড়লেন কলিতা মাজি

এই মামলায় কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ না পাওয়ায় সরকারি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে অতীতের বকেয়া ভাতা মেটাতে হওয়া খরচের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ কবে এবং কীভাবে মেটানো হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে কর্মচারী মহলের।

google button