বকেয়া DA নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ, এবার যা করবেন কর্মীরা

Published:

Supreme Court Dearness allowance

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে বাংলায় জলঘোলার শেষ নেই। গত দু” দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ও বুধবার মামলা নিয়ে আলোচনা হলেও খুব একটা সুরাহা হয়েছে মামালকারীদের সেটাও নয়। কী হল আদালতে? ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে মামলাটি? নতুন কোনও নির্দেশ এল কী? সেই নিয়ে আবারও একবার মুখ খুললেন ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।

ডিএ নিয়ে নতুন বার্তা সরকারি কর্মীদের

এক ভিডিও বার্তায় মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee) জানান, ‘গত ৬ আগস্ট যে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগ জানিয়েছিলাম যে, ইন্দু মালহোত্রার কমিটি পূর্বের সরকারের সঙ্গে আটবার বর্তমান সরকারের সঙ্গে দু’বার বৈঠক করেছে। কিন্তু কোনো রিপোর্ট আমাদের দেয়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ইন্দু মালহোত্রার যে পুরো রিপোর্ট মামলাকারীদের কাছে পাঠাতে হবে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে তার উত্তর সর্বোচ্চ আদালতে জমা দিতে এবং সেগুলো কিন্তু আমরা সব নির্দেশ পালন করেছি। যে রিপোর্টগুলি পেশ করেছিলাম সেগুলো নিয়ে গতকাল কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা যে সাবমিশন পেশ করেছিলাম সেখানে কিন্তু গ্রান্ট ইন এইড-দের কথা উল্লেখ ছিল এবং AICPI মেনে যে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া হচ্ছে না সেটাও উল্লেখ ছিল। এমনকি কেএমসি এলাকায় যে, যে DA টা এখনও অবসরপ্রাপ্তরা পায়নি সেই কথা উল্লেখ ছিল। আমাদের যে মাননীয় আইনজীবীরা আছেন তারা কিন্তু শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আমরা জানিয়েছি সরকার All India Consumer Price Index অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মতো DA টা দেয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফের একবার মালহোত্রা কমিটি আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। আর মামলাটা আট সপ্তাহের পরে পরবর্তী বেঞ্চে উঠবে। কারণ আপনারা সকলেই জানেন মাননীয় সঞ্জয় কারোল অবসর নিচ্ছেন।’

বড় বার্তা আইনজীবীর

মলয় আরও জানান, ‘এখন এই প্রেক্ষিতটা কতটা ভালো হলো কি কতটা মন্দ হলো আমরা তো বুঝে উঠতে পারি না। এগুলো আইনের ব্যাপার।’ এদিকে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, ‘যে রায়টা দেওয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে যে কারা কারা ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সামনে উপস্থিত হবেন। এই সংগঠন মূলত কনফাডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ এবং আরও দুটো সংগঠন রয়েছে যারা উপস্থিত হবে। যারা মামলাকারী  তাদের পক্ষ থেকে নাম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল এবং সেই অনুযায়ী বুধবার সেই নাম জমা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে যে DA রোপার রুল ২০০৯ মোতাবেক দিতে হবে এবং All India Consumer Price Index অনুযায়ী দিতে হবে। এখনো পর্যন্ত আমাদের বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।  এক, যারা পেয়েছেন তারা সঠিক হারে বকেয়া ডিএ পাননি, মানে যে পরিমাণ বকেয়া পাওয়ার কথা সেই পরিমাণ পাননি। দ্বিতীয় হচ্ছে এখনো পর্যন্ত Grant in Aid অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক, উচ্চশিক্ষা স্তরের স্কুলের শিক্ষক, কলেজের অধ্যাপক, পঞ্চায়েতের কর্মী, পুরসভার কর্মী, অন্যান্যরা কোনও টাকা পাননি। সর্বোচ্চ আদালত যখন নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে তাহলে এত দেরি কেন হচ্ছে টাকা দিতে? যখন এই মামলাটি চলছিল সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে একটা হিসেব দেওয়া হয়েছিল এবং যে হিসাব দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশও পেয়েছিলেন। সেটা হচ্ছে প্রায় ৪১,৭৭০ কোটি টাকা সরকারকে দিতে হবে। যাইহোক আমরা আমাদের দাবি আবারও ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সামনে পেশ করব এবং আশা করব তাড়াতাড়ি টাকাটা পাওয়ার।’

আরও পড়ুনঃ ট্রেনে নয়, প্রিমিয়াম সরকারি বাসে যান কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জানুন রুট ও সময়সূচি

ডিএ মামলায় বড় রায় আদালতের

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ নিয়ে কর্মচারীদের অভিযোগ শুনবে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি। বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি পি কে মিশ্রর বেঞ্চ জানায়, মামলাকারী সরকারি কর্মচারী সংগঠনের মোট ১০ জন প্রতিনিধি কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। তাঁদের মধ্যে ৫ জন আইনজীবী এবং ৫ জন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধি থাকবেন। আট সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি।।রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে প্রায় ৭৭০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে এই তথ্য জানান।