ড্রেস কোডের পর এবার দিঘার সমুদ্রে মদেও নিষেধাজ্ঞা! আরও কড়া নিয়ম আনছে রাজ্য সরকার

Published:

Digha Alcohol Ban

অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: এবার দিঘার সমুদ্র সৈকতের (Digha Sea Beach) আশেপাশে নেশা করতে দেখলেই কড়া পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার। ছুটির মরসুমে বা উইকএন্ডে দিঘার সৈকতে এই দৃশ্য মোটেই বিরল নয়। অনেকসময়ই ছুটির দিনে ভিড়ের মধ্যে কিছু পর্যটককে মদ্যপ হয়ে বিচে অসভ্যতা ও হৈ হট্টগোল করতে দেখা যায়। এমনকি নেশাগ্রস্থ অবস্থায় উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন অনেকে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। মদ্যপ ব্যক্তিরা বাকি পর্যটকদেরও স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত করেন। এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। 

দিঘার সমুদ্র সৈকত নেশামুক্ত রাখতে সরকারের নয়া পদক্ষেপ

গত শনিবার দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করতে আসেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি। সেইসময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দিঘার সমুদ্রেসৈকতে নেশা ও মদ্যপান করার বিরোধিতা করেন। তাঁর কথায়, তট এবং তট সংলগ্ন এলাকায় মদ্যপান ও তামসিক দ্রব্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত। পুরো দিঘায় তট সংলগ্ন এলাকায় মদ্যপান করে সমুদ্রে নামা অপরাধ। এছাড়াও, তিনি বলেন, বেপরোয়া হয়ে মদ্যপান করে জলে স্নান করতে গিয়ে প্রাণ যায় অনেকের। এতে ভোগান্তির শিকার হয় তাদের পরিবারগুলি, যাদের কোন দোষই ছিল না।  

আরও পড়ুন: দিঘার স্পা সেন্টারের আড়ালে চলছিল মারাত্মক খেলা! পুলিশি অভিযানে সব ফাঁস

এছাড়া লুকিয়ে লুকিয়ে ডাবের জলে মদ মিশিয়ে পান করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, জলের মধ্যেও অনেকে মদ মেশাচ্ছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলি তাঁর সবই জানা। তাই ঠান্ডা পানীয়ের সাথে বা জলে মদ মেশানোর বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি জানান যে, প্রয়োজন পড়লে দিঘার তট সংলগ্ন এলাকায় ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্ট করার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে। শীঘ্রই জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার। 

আরও পড়ুন: এবার মুর্শিদাবাদ, বীরভূম হয়ে দিঘার নতুন এসি বাস পরিষেবা চালু, জানুন সময়সূচি ও রুট

উল্লেখযোগ্যভাবে, দিঘার সমুদ্রে ‘ড্রেস কোড’ চালু করার পরামর্শও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দিঘায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সমুদ্রস্নানের জন্যও নতুন নির্দেশিকা জারি করতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শারদ্বত মুখার্জি বলেন, অনেক মহিলারা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্যুইমস্যুট বা সমুদ্রস্নানের জন্য উপযুক্ত পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, এমনটা নয়। যারা স্যুইমস্যুট সুট পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না, তারা শাড়ি সালোয়ার-কামিজ পড়তেই পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে পোশাকের রং উজ্জ্বল হতে হবে, যাতে দূর থেকে দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও শারদ্বত মুখার্জী বলেন, সমুদ্রতটের প্রতি ১০০ মিটার অন্তর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা মোতায়েন করা এবং আরও উন্নত লাইফগার্ডিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।