সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় নতুন সরকার গঠিত হতেই সাধারণ মহিলাদের মনে একটাই প্রশ্ন, লক্ষীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) কি বন্ধ হয়ে যাবে, নাকি বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা মিলবে? যদিও এ মাসে এখনও পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কোনও মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। তবে আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আগে চালু হওয়া কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। তাহলে কি লক্ষীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা মিলবে?
বন্ধ হচ্ছে না আগের প্রকল্প
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভোটের আগে যা ঘোষণা করেছিলেন, তা-ই পালন করব। আমরা প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করার জন্য বদ্ধপরিকর। কিন্তু হ্যাঁ, আগে থেকে চালু কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না। সেই কারণে অনেকে ভাবছে যে, লক্ষীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবসাথী, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি প্রকল্পগুলি হয়তো আগের মতোই চলবে।
বন্ধ হবে লক্ষীর ভাণ্ডার?
জানিয়ে দিই, বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বাবদ প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। কারণ, তৃণমূল সরকারের ক্ষমতায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাবদ ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছিল, যা সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছিল। তাই বিজেপি বলেছিল যে, এবার সেই টাকা দ্বিগুণ দেওয়া হবে, এবং প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে করা হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী আবার বললেন, পুরনো প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে না। সেই কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে কি হবে না, বা বিজেপির তরফ থেকে নতুন প্রকল্প চালু করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি। আগামী সোমবার পুনরায় প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে হয়তো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: দিলীপ থেকে অগ্নিমিত্রা, শুভেন্দুর ক্যাবিনেটের কাকে কোন মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব দেওয়া হল?
উল্লেখ্য, আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। তিনি আজ থেকেই ভারতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়াও সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হয়েছে ৫ বছর। পাশাপাশি বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে। যদিও নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, বেকারদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার জন্য প্রস্তুতির জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়াও আরও অন্যান্য। এখন দেখার, ধাপে ধাপে ডবল ইঞ্জিন সরকার এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করে কিনা।










