ম্যাট্রিমনিতে ‘মানিক’ সেজে ১৫টি বিয়ে, নৈহাটিতে পুলিশের জালে বউবাজারের মনিউর

Published:

Naihati

সৌভিক মুখার্জী, নৈহাটি: মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একের পর এক তরুণীর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা। এবার ম্যাট্রিমনি সাইটকে হাতিয়ার করে এক অভিনব জালিয়াতির পর্দা ফাঁস করে ফেলল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি (Naihati) থানা। নিজের নাম, ধর্ম ভাঁড়িয়ে কমপক্ষে ১৫টি বিয়ে আর প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মনিউর রহমান নামের এক যুবককে। সূত্রের খবর, ধৃতের আসল বাড়ি কলকাতার বউবাজার এলাকায়।

দেড় কোটি টাকার বেতনের প্যাকেজ!

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, প্রতারক মনিউর ম্যাট্রিমনি সাইটে মানিক রায় নামের একটি ভুয়ো প্রোফাইল খুলেছিল। আর নিজেকে একটি সনামধন্য গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত দিত সে। এমনকি দাবি করত, তাঁর বেতন নাকি প্রতি বছরে দেড় কোটি টাকা। আর এই ফাঁদে পা দেন নৈহাটির এক তরুণী সহ বহু নারী। তাঁদের সাথে পরিচয় গভীর হলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেই হবু শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে মোটা টাকা এবং গয়না হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা ছিল মনিউরের।

নৈহাটির অভিযোগকারী তরুণী জানান যে, মাত্র তিন মাসের আলাপেই তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮৫ হাজার টাকা আদায় করেছে ওই যুবক, এবং একটি দামি সোনার ব্রেসলেট হাতিয়ে নেয় সে। সন্দেহ তৈরি হয় তখনই, যখন মনিউর তাঁর এক মামার মৃত্যুর অজুহাতে মুম্বাইয়ে এক বন্ধুর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে। ওই তরুণী ইন্টারনেটে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, ওই ব্যক্তি আসলে বর্ধমানের বাসিন্দা। তারপর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মেয়ের হদিশ পান, যাদের সঙ্গে একইরকম প্রতারণা করেছে মনিউর।

এই প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হতেই মনিউরকে একেবারে হাতেনাতে ধরেন তরুণী। প্রথমে তাঁকে নিজের বাড়িতেই ডেকে পাঠানো হয়। এমনকি বলা হয় যে, পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য তাঁকে আশীর্বাদী হিসেবে সোনা উপহার দেবেন। আর সোনার লোভে পা দিতেই বাগে পড়ে মনিউর। আগে থেকেই ওই বাড়িতে ওঁত পেতে বসেছিল পুলিশ। আর সেখানেই তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: লোকনাথ বাবার তিরোধান দিবস কবে? জেনে নিন পুজোর নিয়মকানুন

মনিউরকে আটক করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সে নিজেই ফোনে গলা বদল করে তাঁর বাবা সেজে কনে এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলত। এমনকি মেয়েটিকে ফোনে ‘লক্ষী মা’ বলেও ডাকত। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, আর্থিক তছরুপ সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এমনকি এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর কঠোর শাস্তি দাবী জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ভুক্তভোগীরা। এমনকি জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ জনের সঙ্গে এরকম প্রতারণা করেছেন ওই মনিউর রহমান।