সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কলকাতার গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে পড়ার ক্ষত এখনও পর্যন্ত টাটকা। তার মধ্যে আবার বেআইনি নির্মাণের এক ভয়ঙ্কর খতিয়ান সামনে এনেছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। বিল্ডিং বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরের বুকে প্রায় ৩০০০ বেআইনি বহুতল (Illegal Construction) মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থা তিলজলা এবং তপসিয়া এলাকায়। এমনকি সেখানে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডও ঘটেছে। আর এই পুরো বেল্টটিকেই পুরসভা সবথেকে বিপজ্জনক বা ‘রেড জোন’ বলে ঘোষণা করছে।
তিলজলা-তপসিয়ায় ১০০০ বাড়ি ভাঙার অপেক্ষা
পুরসভার আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবলমাত্র তিলজলা-তপসিয়ায় এলাকাতেই আনুমানিক ১০০০ বেআইনি বহুতল ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে। আর গত দুই দশকে এই এলাকায় গড়ে ওঠা আনুমানিক ৭০ শতাংশ ভবন কোনও রকম অফিসিয়াল পারমিশন বা পুরসভার নকশা ছাড়াই নাকি তৈরি করা হয়েছে। এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ এখন রেওয়াজে পরিণত হচ্ছে।
এদিকে তিলজলা ছাড়াও কলকাতার আরও বেশ কিছু এলাকাকে তালিকায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে একবালপুর ও খিদিরপুর, গার্ডেনরিচ, মেটিয়াব্রুজ, বড়বাজার ও চিতপুর, ইএম বাইপাস সহ বেশ কিছু কলোনি এলাকা। এখানেও কয়েকশো এরকম অবৈধ নির্মাণ মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, পুরসভার রিপোর্টে একটি বিস্ফোরক তথ্যও সামনে আসছে। তিলজলা-তপসিয়ায় বা বড় বাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে পুর কর্মীদের। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব থেকে শুরু করে হুমকি, মারধরের আশঙ্কায় অনেক সময় ইঞ্জিনিয়াররা পর্যন্ত ওই সমস্ত এলাকায় ঢুকতে ভয় পাচ্ছে। আর নজরদারির অভাব এবং দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ারও নজির গড়ছে একের পরে বহুতলে।
𝗔𝗯𝗼𝘂𝘁 𝟯𝟬𝟬𝟬 𝗯𝘂𝗶𝗹𝗱𝗶𝗻𝗴𝘀 𝘂𝗻𝗱𝗲𝗿 𝗞𝗠𝗖 𝘄𝗮𝘁𝗰𝗵𝗹𝗶𝘀𝘁.
The Buildings Department under the Kolkata Municipal Corporation (KMC) has identified 3,000 buildings in ‘red zones’ across six boroughs of Kolkata that have grossly violated the civic body’s… pic.twitter.com/iZFks8Th72
— The West Bengal Index (@TheBengalIndex) May 16, 2026
আরও পড়ুন: নবম শ্রেণী থেকে ৩টি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক, নতুন নিয়ম CBSE বোর্ডের
তবে সম্প্রতি অবৈধ নির্মাণের এই রমরমা রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কলকাতা পৌরসভা এবং সিইএসসই-কে যৌথভাবে এই সমস্ত বেআইনি নির্মাণ অডিট করতে হবে। আর আইন অমান্য করে তৈরি করা এই সমস্ত ভবনের বিদ্যুৎ এবং জলের সংযোগ অবিলম্বে কেটে দিতে হবে।










